জেফরি এপস্টিন প্রভাবশালী ও ধনকুবেরদের ভোগবিলাসের সুযোগ দিয়ে গোপনে সেসবের প্রমাণ সংগ্রহ করে তা নিজের কাছে রেখে দিতেন
জেফরি এপস্টিন প্রভাবশালী ও ধনকুবেরদের ভোগবিলাসের সুযোগ দিয়ে গোপনে সেসবের প্রমাণ সংগ্রহ করে তা নিজের কাছে রেখে দিতেন

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এপস্টিনের ছয়টি গোপন লকার: সেগুলোতে কি তিনি আপত্তিকর ফাইল রাখতেন

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিন তাঁর ফ্লোরিডার বাড়ি থেকে কম্পিউটার ও ছবি সরিয়ে নিতে ব্যক্তিগত গোয়েন্দাদের ভাড়া করেছিলেন। প্রমাণ গায়েব করে তদন্ত কাজে বাধা দিতে তিনি এ কাজ করেছিলেন। দ্য টেলিগ্রাফের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পত্রিকাটির হাতে এমন কিছু নথি পড়েছে, যেগুলোতে দেখা যাচ্ছে, এপস্টিন তদন্তকাজে বাধা দিতে এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের তাঁর বাড়ি থেকে অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করা ঠেকাতে ব্যক্তিগত গোয়েন্দা ভাড়া করেছিলেন তিনি। ওই গোয়েন্দাদের কাজ ছিল, তাঁর বাড়ি থেকে নথিপ্রমাণ সরিয়ে ফেলা।

টেলিগ্রাফের হাতে পড়া নথিতে আরও দেখা গেছে, এপস্টিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছয়টি লকার ভাড়া করেছিলেন। তাঁর বিভিন্ন আবাসন থেকে সংগ্রহ করা জিনিসপত্র সেখানে গোপনে রাখা হতো। লকারে রাখা জিনিসপত্রের মধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাঁর ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমস থেকে আনা কম্পিউটারও ছিল।

এর মধ্যে অন্তত একটি লকার ২০০৩ সালে ভাড়া করা হয়েছিল। সে সময় এপস্টিন ফ্লোরিডার অভিজাত এলাকা মার-এ-লাগোতে বসবাস করতেন। প্রভাবশালী ও ধনীদের সঙ্গে তাঁর চলাফেরা ছিল।

টেলিগ্রাফের হাতে ক্রেডিট কার্ডের যে রসিদ পড়েছে, তাতে দেখা গেছে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ওই লকারের ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। ওই বছর নিউইয়র্ক কারাগারে নিজের কারাকক্ষ থেকে এপস্টিনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জানানো হয়, তিনি সেখানে আত্মহত্যা করেছেন।

এ মাসের শুরুতে প্রকাশিত টেলিগ্রাফের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এপস্টিন কর্মচারীদের বাড়িতে টিস্যু বক্সে গোপন ক্যামেরা সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

টেলিগ্রাফের কাছে আসা নথিপত্র বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুব সম্ভবত ওই সব লকারে মার্কিন কর্তৃপক্ষের হাত পড়েনি। যদি তা–ই হয়, তবে এমনও হতে পারে, সেগুলোতে এপস্টিন ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কিত অদেখা আরও নথিপত্র রয়ে গেছে।

জানুয়ারিতে এপস্টিন–সম্পর্কিত প্রায় ৩০ লাখ নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে)। তবে এখনো আরও অনেক নথি অপ্রকাশিত রয়ে গেছে বলে কেউ কেউ বিশ্বাস করেন।

কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ করা হতো, এপস্টিন তাঁর সহযোগী ও অতিথিদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে রাখতেন। তেমন ছবি বা ভিডিও তুলনামূলকভাবে খুব কমই প্রকাশ পেয়েছে।

অভিযোগ আছে, এপস্টিন মামলায় মার্কিন বিচার বিভাগ ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের তদন্ত থেকে রক্ষা করতে চাইছে। যদিও কর্তৃপক্ষ বারবার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। টেলিগ্রাফের এই প্রতিবেদন ওই অভিযোগের পালে নতুন করে হাওয়া দিয়েছে।

কারণ, মার্কিন বিচার বিভাগ যে ই–মেইল প্রকাশ করেছে এবং টেলিগ্রাফ গোপন লকার থাকা–সংক্রান্ত যে আর্থিক নথি উদ্ধার করেছে, তা ইঙ্গিত দেয়, সেগুলোতে আপত্তিকর ও গোপন সামগ্রী রাখা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে এপস্টিনের পাঁচটি বড় বড় বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। ২০১৯ সালে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ যখন এই সম্পত্তিগুলোতে তল্লাশি করেছিল, তখন তোলা ছবিতে দেখা গেছে, সেগুলোতে অনেক স্টোরেজ ও বেজমেন্ট খালি পড়ে আছে। এরপরও তিনি কেন বাইরে লকার ভাড়া করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।

এ মাসের শুরুতে প্রকাশিত টেলিগ্রাফের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এপস্টিন বাড়িতে তাঁর কর্মচারীদের টিস্যু বক্সে গোপন ক্যামেরা সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

১৯৯৩ সালে ব্রুস কিংয়ের কাছ থেকে জোরো র‍্যাঞ্চ নামের এই খামার কিনেছিলেন

এর আগে এফবিআই বলেছিল, এপস্টিন আপত্তিকর ছবি-ভিডিও সংগ্রহ করতেন, এমন প্রমাণ তারা পায়নি।

টেলিগ্রাফের হাতে যে নথি পড়েছে, তাতে দেখা গেছে, এপস্টিন ভাড়া করা ব্যক্তিগত গোয়েন্দাদের তাঁর কম্পিউটার অন্য একটি লকারে স্থানান্তর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সম্ভবত বর্তমান শতাব্দীর শুরুর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি চলেছিল এবং সম্ভবত কেউ তাঁকে আগে থেকেই তল্লাশির বিষয়ে সতর্ক করেছিল।

এপস্টিন ব্যক্তিগত গোয়েন্দাদের তাঁর পক্ষ থেকে নিউইয়র্কে একটি গোপন লকার খোলার নির্দেশও দিয়েছিলেন। এসব কাজের জন্য গোয়েন্দারা ১০ হাজার ডলারের বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন।

ফ্লোরিডায় এপস্টিনের ব্যক্তিগত গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করেছেন, এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের কাছে গোপন লকার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, এপস্টিনের জন্য তাঁদের কাজ ছিল গোপনীয়।

এপস্টিনের এসব গোপন লকারে কখনো তল্লাশি চালানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে এফবিআইও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।