
গত বছর বিশ্বজুড়ে কার্বন নির্গমন বেড়েছে। এই বৃদ্ধির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্যই দায়ী যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য হয়ে আবারও কয়লার দিকে ঝুঁকেছে। এনার্জি ইনস্টিটিউটের মঙ্গলবারের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এনার্জি ইনস্টিটিউট প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। তাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে এম্বার, কার্নি ইনস্টিটিউট ও কেপিএমজি।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে কয়লার ব্যবহার ১০ শতাংশ বেড়েছে। এটি পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে যাওয়ার প্রবণতা ঠিক উল্টো প্রবণতা। পাশাপাশি এটি সার্বিক কার্বন নির্গমনও বাড়িয়েছে।
বিশ্বে জ্বালানি খাত থেকে কার্বন নির্গমন ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। নির্গমনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৮০৬ মিলিয়ন মেট্রিক টনে। এই বৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশের বেশি ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ১০ বছর ধরে উত্তর আমেরিকায় কার্বন নির্গমন শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ হারে কমছিল। কিন্তু এবার সেই ধারা ভেঙে গেছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা বেড়েই চলেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় মোট জ্বালানি সরবরাহ ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে নবায়নযোগ্য শক্তি। নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে কেবল সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনই বেড়েছে ৩০ শতাংশ।
২০২৫ সালে ইউরোপের জ্বালানি খাত থেকে কার্বন নির্গমন শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে চীনে এই নির্গমন বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।
সরবরাহের চেয়ে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক দ্রুতগতিতে বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এই চাহিদা বেড়েছে ৩ শতাংশ। মূলত বৈদ্যুতিক গাড়ি, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারই বিদ্যুতের এই বিপুল চাহিদা বাড়িয়েছে।
২০২৫ সালে বিশ্বে জ্বালানি তেলের ব্যবহার ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। দৈনিক ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে। ২০২৪ সালে এই বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে বিশ্বে তেলের উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
গত বছর চীনে পেট্রল ও ডিজেলের ব্যবহার কমেছে। ২০২৪ সালেও দেশটিতে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।
ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকায় মূলত গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে। তবে ইউরোপ ও ভারত তাদের গ্যাসের চাহিদার প্রায় অর্ধেকই আমদানির মাধ্যমে মেটাচ্ছে।