
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি মোটেলে মাদক ও যৌন ব্যবসা চালানোর অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দম্পতিসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় গোয়েন্দাদের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন ৫২ বছর বয়সী কোষা শর্মা এবং ৫৫ বছর বয়সী তরুণ শর্মা। কোষাকে ওই চক্রের লোকজন ‘মা’ বা ‘মামা কে’ এবং তরুণকে ‘পপ’ বা ‘পা’ বলে বলে ডাকতেন।
উত্তর ভার্জিনিয়ার ফেডারেল আইনজীবীরা বলছেন, এই দম্পতি তাঁদের মালিকানাধীন ‘রেড কার্পেট ইন’ হোটেলের তিনতলাটি মাদক বিক্রি এবং যৌন ব্যবসার কাজে ব্যবহার করতেন। আর সাধারণ অতিথিদের রাখতেন হোটেলের অন্যান্য তলায়।
আদালতের নথিপত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে শর্মা দম্পতি এই হোটেলটি পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, শর্মা দম্পতি এই অবৈধ কাজের জন্য অপরাধীদের সুযোগ করে দিতেন এবং বিনিময়ে আয়ের একটি অংশ নিতেন।
পুলিশ জানায়, কোষা শর্মা যৌনকাজের জন্য যাওয়া পুরুষদের হোটেলের তিনতলায় পাঠিয়ে দিতেন। এমনকি পুলিশ অভিযানে এলে তিনি অপরাধীদের আগেভাগে সতর্ক করে দিতেন এবং অনেক সময় পুলিশকে হোটেলের কক্ষে ঢুকতে বাধা দিতেন।
অভিযানে কোষা ও তরুণ ছাড়া আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ৫১ বছর বয়সী মার্গো পিয়ার্স, ৪০ বছর বয়সী জশুয়া রেডিক এবং ৩৩ বছর বয়সী রাশার্ড স্মিথ।
২০২৫ সালের মে থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে এফবিআই এবং স্থানীয় পুলিশের গোয়েন্দারা খদ্দের এবং যৌনকর্মীর ছদ্মবেশে অন্তত নয়বার ওই হোটেলে যান।
তদন্তে দেখা গেছে, সেখানে অন্তত আটজন নারীকে দিয়ে জোরপূর্বক দেহব্যবসা করানো হতো। স্মিথ ও তাঁর সহযোগীরা যৌনকর্ম করতে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৮০ থেকে ১৫০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত নিতেন। ওই নারীদের হোটেল থেকে বের হতে দেওয়া হতো না। তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও চলত।
এ ছাড়া ছদ্মবেশী গোয়েন্দারা ওই হোটেল থেকে ১৫ বার মাদক কেনেন। এর মধ্যে ১১ বার ছিল মরণঘাতী মাদক ‘ফেন্টানিল’ এবং চারবার ছিল কোকেন। মার্গো পিয়ার্স নামের ব্যক্তি এই মাদক সরবরাহের কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেন্টানিলসহ মারাত্মক মাদক সরবরাহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের কমপক্ষে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।