গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সৌদা বে নৌঘাঁটিতে ভিড়ছে বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। ২৩ মার্চ, ২০২৬
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সৌদা বে নৌঘাঁটিতে ভিড়ছে বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। ২৩ মার্চ, ২০২৬

গ্রিসের বন্দরে ফেরত গেল বৃহত্তম মার্কিন রণতরি জেরাল্ড আর ফোর্ড

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন অভিযানে অংশ নেওয়া বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ গতকাল সোমবার গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের একটি নৌঘাঁটিতে ফিরেছে।

রণতরিটি গত ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদা বে থেকে খাবার, জ্বালানি ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করেছিল। তবে ১২ মার্চ জাহাজটির একটি লন্ড্রি রুমে অগ্নিকাণ্ডে ক্রু দলের দুই সদস্য আহত হন।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিমান অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই অভিযানে ‘ফোর্ড’ ছাড়াও ‘আব্রাহাম লিংকন’ নামে আরেকটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি অংশ নেয়।

কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান নিয়ে গঠিত ‘এয়ার উইং’ সমৃদ্ধ দুই রণতরিই ইরান অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে এখন ফোর্ডকে সরিয়ে নেওয়ায় ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতে একটি বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে।

দীর্ঘ সময়ের জন্য ফোর্ডকে রণক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেওয়ার মানে হলো যুদ্ধচেষ্টায় মার্কিন সমর্থন কমে যাওয়া।
ড্যানিয়েল স্নাইডারম্যান, পেন ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক নীতি কর্মসূচির পরিচালক

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পেন ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক নীতি কর্মসূচির পরিচালক ড্যানিয়েল স্নাইডারম্যান এ বিষয়ে বলেন, ‘দীর্ঘ সময়ের জন্য ফোর্ডকে রণক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নেওয়ার মানে হলো, যুদ্ধচেষ্টায় মার্কিন সমর্থন কমে যাওয়া।’

এ বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের সুরক্ষায় ফোর্ডের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তবে তিনি মনে করেন, ফোর্ডের সঙ্গে থাকা অন্য যুদ্ধজাহাজগুলো যদি ইসরায়েলের কাছাকাছি মোতায়েন থাকে, সেক্ষেত্রে ফোর্ড চলে যাওয়ার প্রভাব অনেকটা সামাল দেওয়া যাবে। কারণ, ওই জাহাজগুলোতেও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।

ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড প্রায় ৯ মাস সমুদ্রে মোতায়েন ছিল। এ দীর্ঘ সময়ে এটি ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন অভিযানেও অংশ নিয়েছে। সেখানে ওয়াশিংটন মাদক চোরাচালানের অভিযোগে বিভিন্ন নৌযানে হামলা চালিয়েছে, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযানেও অংশ নিয়েছে।

মার্কিন রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ১২ মার্চ রণতরিটির লন্ড্রি রুমে লাগা আগুনে দুজন নাবিক আহত হওয়ার পাশাপাশি জাহাজের অন্তত ১০০টি শয্যা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শুধু আগুনই নয়, মাঝসমুদ্রে রণতরিটির টয়লেট নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছিল বলে জানা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন বলছে, টয়লেটে জট লেগে যাওয়ায় নৌবাহিনীর কর্মীদের এটি ব্যবহারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

প্রায় এক বছর সমুদ্রে থাকতে থাকতে ফোর্ড ও এর নাবিকেরা এখন ‘খাদের কিনারে’ এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেপরোয়া সামরিক সিদ্ধান্তের খেসারত দিচ্ছেন।
মার্ক ওয়ার্নার, মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান

রণতরিটির দীর্ঘমেয়াদে মোতায়েন নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার। তিনি বলেন, ‘প্রায় এক বছর সমুদ্রে থাকতে থাকতে ফোর্ড ও এর নাবিকেরা এখন খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেপরোয়া সামরিক সিদ্ধান্তের খেসারত দিচ্ছেন।’