ব্যালট–সংক্রান্ত এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার সময় বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে। ৩১ মার্চ ২০২৬
ব্যালট–সংক্রান্ত এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার সময় বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে। ৩১ মার্চ ২০২৬

ইরান থেকে ‘খুব দ্রুত’ সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র, প্রয়োজনে আবার ফিরবে: ট্রাম্প

ইরান থেকে ‘খুব দ্রুত’ সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রয়োজনে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে আবারও ফিরে আসতে পারে। বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরান যুদ্ধ ইতিমধ্যে পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় এ যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে চাপে আছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ–সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপগুলো তুলে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার রাত ৯টায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তাঁর ভাষণের একটি দিক হবে ন্যাটোর প্রতি তাঁর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করা। তাঁর মতে, ইরানে মার্কিন লক্ষ্য অর্জনে এই জোটের পক্ষ থেকে সমর্থনের অভাব রয়েছে। ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তিনি ‘অবশ্যই’ বিবেচনা করছেন বলে জানান। ১৯৪৯ সালে মার্কিন সিনেটে এই জোটের অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের যখন দরকার পড়ল, তখন তারা বন্ধুর পরিচয় দেয়নি। আমরা কখনো তাদের কাছে খুব বেশি কিছু চাইনি...এটা সব সময় একতরফা ছিল।’

যুক্তরাষ্ট্র কখন ইরান যুদ্ধ শেষ বলে বিবেচনা করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আপনাকে নির্দিষ্ট করতে বলতে পারব না...আমরা খুব দ্রুতই সরে আসব।’

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না ইরান

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন অভিযানের ফলে এটি নিশ্চিত হয়েছে যে ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। কারণ, তাদের এখন আর সেই সক্ষমতায় নেই। এরপর আমি চলে যাব এবং আমার সঙ্গে সবাইকে নিয়ে যাব। আর যদি প্রয়োজন হয়, তবে আমরা আবার ফিরে আসব “স্পট হিট” (সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত) করার জন্য।’

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।

বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নতুন নেতাদের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়েও ট্রাম্প তাঁর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি সরকার পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি। আমি মনে করি, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, তারা আর কোনো বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হতে চায় না।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমার সরকার পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল না; কিন্তু যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির সুবাদে আমরা তা পেয়েছি। আমরা এটি অর্জন করেছি। সুতরাং আমরা সরকার পরিবর্তন করতে পেরেছি। বড় বিষয় হলো, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘তারা এখন এটি চায়ও না।’

ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘সেগুলো মাটির অনেক গভীরে রয়েছে, আমি ওসব নিয়ে চিন্তা করি না।’ তবে তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সেটির ওপর নজর রাখব।’