
বর্তমান প্রজন্মের মানুষ ৬৫ বছর আগের তুলনায় গড়ে প্রায় ছয় গুণ বেশি মুরগির মাংস খাচ্ছে। একই সঙ্গে গত ৬০ বছরে বিশ্বব্যাপী মাংসের সরবরাহ চার গুণ বেড়েছে। এই বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, ১৯৬১ সালে যেখানে বছরে জনপ্রতি মুরগির মাংসের সরবরাহ ছিল ৩ কেজির নিচে, ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ কেজিতে। তবে গরুর মাংসের সরবরাহ জনপ্রতি ৯ কেজিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৯৬১ সালে বছরে যেখানে বিশ্বব্যাপী গড়ে জনপ্রতি মাংসের সরবরাহ ছিল ২৫ কেজি, ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ কেজিতে। এ ছাড়া উৎপাদনে অবহেলা বা সুপারমার্কেটের তাক ও রেস্তোরাঁয় পৌঁছানোর পর প্রায় ১৪ শতাংশ মাংস ও দুধ অপচয় বা নষ্ট হয়।
উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে চিকিৎসকেরা ও জলবায়ুবিজ্ঞানীরা মাংস খাওয়া কমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অথচ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো—যেখানে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা সবচেয়ে বেশি, সেখানে মানুষের আয়ের তুলনায় প্রাণিজ খাদ্যের দাম ধনী দেশগুলোর চেয়ে বহুগুণ বেশি।
এফএওর গবাদিপশু উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং এই প্রতিবেদনের সহলেখক দানিয়েলা বাত্তাগ্লিয়া বলেন, ‘আঞ্চলিক বণ্টন এবং প্রাপ্তির সুযোগের ক্ষেত্রে এখনো ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে মাংসের ব্যবহার এখনো বেশ উচ্চ এবং স্থিতিশীল, তবে নিম্ন আয়ের দেশগুলো এখনো প্রাণিজ পণ্য কেনার সামর্থ্যের অভাবের কারণে পিছিয়ে রয়েছে।’
জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তসরকারি প্যানেল (আইপিসিসি) গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে মাংসনির্ভর খাদ্যাভ্যাস থেকে উদ্ভিদসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাসে রূপান্তরকে অন্যতম সেরা উপায় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই এফএও প্রতিবেদনে ধনী দেশগুলোর প্রাণিজ পণ্যের অতিরিক্ত ব্যবহারসংক্রান্ত গবেষণার কথা উল্লেখ করা হলেও, তাদের মাংস খাওয়া কমানোর সরাসরি কোনো সুপারিশ করা হয়নি।
স্টকহোম এনভায়রনমেন্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বিজ্ঞানী ক্লিও ভার্কুইজল বলেন, এই প্রতিবেদন সমস্যাটিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জায়গায় এসে থমকে গেছে।
এর আগেও জলবায়ু রোডম্যাপ থেকে মাংস ব্যবহারের পরিমাণ কমানোর বিষয়টি রহস্যজনকভাবে বাদ দেওয়ায় বিজ্ঞানীরা এফএওর পূর্ববর্তী প্রতিবেদনের সমালোচনা করেছিলেন। গবাদিপশুর নির্গমন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে মাংস কমানোর জলবায়ুগত সুবিধাকে খাটো করে দেখানোর পেছনে গুরুতর ভুল ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই খাদ্যব্যবস্থা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে গবাদিপশুর অবদান মূল্যায়নের জন্য এই সর্বশেষ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এফএও জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষের দিকে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যেখানে টেকসই পরিবেশের বিষয়টি আরও বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হবে।