সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা জাসদের সভাপতি রাজিউর রহমান, সদর উপজেলা সিপিবির সভাপতি চৌধুরী আনোয়ার হোসেন, সংস্কৃতিকর্মী মাসুদ আহমেদ, আজমত রানা, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক প্রমুখ।
সদর উপজেলা সিপিবির সভাপতি চৌধুরী আনোয়ার হোসেন বলেন, স্টেশনের কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যায় না। অথচ কালোবাজারে চড়া মূল্যে টিকিট বিক্রি হয়। এতে যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

আজমত রানা বলেন, ‘সম্প্রতি ঢাকায় যাওয়ার জন্য ঠাকুরগাঁও রোড রেলস্টেশনে টিকিট কাটতে যাই। সারির পাঁচ নম্বরে দাঁড়িয়েও আমি টিকিট পাইনি। পরের দিন কাউন্টার খোলার পাঁচ মিনিটের মধ্যে সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। লোকজনকে নিয়ে ঘটনাটির প্রতিবাদ করায় কাউন্টারের ভেতর থেকে এক ব্যক্তি সে সময় আমাকে একটি টিকিট ধরিয়ে দেন। এ ঘটনা থেকে আমি নিশ্চিত হই, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারে বিক্রির সঙ্গে কর্তৃপক্ষ জড়িত।’

সংস্কৃতিকর্মী মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও রেলস্টেশনে টিকিট কালোবাজারির সিন্ডিকেট এত শক্তিশালী যে বারবার প্রতিবাদ করেও টিকিটের কালোবাজারি ও যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা যাচ্ছে না। ৫২০ টাকার টিকিট যাত্রীদের জিম্মি করে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি করছে কালোবাজারিরা। প্রতিদিন একই ব্যক্তিরা স্টেশনের কাউন্টারে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করছেন। কিন্তু তাঁদের চিহ্নিত করতে পারছে না রেল কর্তৃপক্ষ। আমরা এসব অনিয়মের প্রতিকার চাই। অন্যথায় কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, লোকাল ট্রেন চললেও ঠাকুরগাঁওয়ে আগে কোনো আন্তনগর ট্রেন চলাচল করত না। দিনাজপুরে গিয়ে ঢাকার ট্রেনে উঠতে হতো। ঠাকুরগাঁও থেকে ট্রেনে সরাসরি ঢাকা যাওয়ার দাবিতে ঠাকুরগাঁওবাসী আন্দোলন করেছেন। এরপর একে একে একতা, দ্রুতযান, পঞ্চগড় এক্সপ্রেসসহ পাঁচটি আন্তনগর ট্রেন পেয়েছি। কিন্তু এখন কাউন্টারে গিয়ে যাত্রীরা টিকিট পাচ্ছেন না। সব টিকিট কালোবাজারিদের হাতে চলে যাচ্ছে। একেকটি টিকিট তিন-চার গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও রোড রেলস্টেশনের মাস্টার আক্তারুল ইসলাম বলেন, স্টেশনের কেউ কালোবাজারে টিকিট বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। যাঁরা টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করছেন, তাঁরা অন্য কোনোভাবে সংগ্রহ করে থাকেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন