যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পর্ক যেভাবে বদলে যাচ্ছে

শুল্ক যুদ্ধ ঘোষণার পর বেশ খোশমেজাজে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি : এএফপি

মূলত ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে আমেরিকা বা যুক্তরাষ্ট্র একক পরাশক্তি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে নিজেকে একক পরাশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এ সময়ে তার বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, ন্যাটোর মতো নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বে প্রভাব বিস্তার করা শুরু করে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনীতিক বৈদেশিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।

যদিও বর্তমানে এই বিশ্বব্যবস্থায় বিশেষ ধরনের এক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যে বিশ্বব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র নিজেই গড়ে তুলেছিল সেই বিশ্বব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ক্রমশ একা হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পর্ক এক ঐতিহাসিক পুনর্বিন্যাস ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পলিসির কারণে।

ট্রাম্প ক্ষমতায় আসেন ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এবং এসেই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি প্রচলন করেন।

আরও পড়ুন

এই নীতির মূলমন্ত্র হলো, এতে আমেরিকার স্বার্থ সবার প্রথমে প্রাধান্য পাবে। এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে ঐতিহ্যগত মিত্রতা, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার বদলে যুক্তরাষ্ট্র এখন শুধু নিজের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে তার মিত্র ও অন্যান্য রাজনৈতিক অংশীদারের কাছ থেকে ক্রমশ দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে।

ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর বাণিজ্য করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

এর আগে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পণ্য অনেক সময় বিনা শুল্কে বা স্বল্প শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করত আর এর ফলে পাল্টাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিও উপকৃত হয়েছে।

কারণ, অধিক উৎপাদন ব্যয়ের কারণে যে পণ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন হতো না, সেগুলো আমেরিকার বাইরে উৎপাদিত হতো এবং কম খরচে আমেরিকায় আমদানি করা হতো।

এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের কাছে তার পণ্য রপ্তানি করেছে এবং এক পারস্পরিক বাণিজ্যব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন

তবে বর্তমানে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে অন্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে চাচ্ছে। কারণ, এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ও সহযোগিতার ওপর ভরসা করা যায় না ট্রাম্প প্রশাসনের অস্থিতিশীল বৈদেশিক সম্পর্কের কারণে।

বাণিজ্য শুল্ক, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং ইউরোপের নিরাপত্তা অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রের অনীহার কারণে দীর্ঘদিনের ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপ স্বাধীন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, নিজস্ব প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম এবং বিকল্প বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো এখনো মৌলিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য।

প্রকাশ্যে প্রতিহিংসাপরায়ণ এক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও ইউরোপজুড়ে নীতিনির্ধারকেরা নীরবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কয়েক দশকের নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন।

এ লক্ষ্যে তাঁরা নিজেদের প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতকে শক্তিশালী করছেন এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর খুব বেশি নির্ভরশীল থাকতে না হয়।

আরও পড়ুন

সম্প্রতি তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে এই প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ এবারের ন্যাটো সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ডেনমার্ক ও স্পেনের বিরুদ্ধে হুমকি দেন এবং স্পেনের সঙ্গে আর কোনো বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখবেন না বলেও মন্তব্য করেন।

এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের মিত্রদেশ স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতা তৈরি হয়েছে এবং শুধু স্পেন নয়, আমেরিকার সঙ্গে অন্য ইউরোপের দেশগুলোরও সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে।

যেমন ইউরোপের দেশগুলো ২০২৫ সালে সামরিক ব্যয় ১৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৬৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে।

এ ছাড়া আমেরিকান কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা তারা প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। ইউরোপের দেশগুলো সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য এখন বিকল্প দেশ খুঁজছে।

এ ছাড়া আমেরিকা ফার্স্ট পলিসির কারণে মার্কিন প্রযুক্তিকোম্পানিগুলো ইউরোপে কিছু বিশেষ কর–সুবিধা পেতে যাচ্ছে, যা ইউরোপীয় দেশগুলো একদম পছন্দ করছে না।

ট্রাম্প প্রশাসনের দুর্বল বৈদেশিক নীতির কারণে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক চার বছর মেয়াদি রাজনৈতিক চক্র ধরে পরিকল্পনা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। এদিকে স্পষ্ট কোনো বিকল্প অংশীদার না থাকায় অধিকাংশ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিবর্তে ধীরে ধীরে নিজেদের ঝুঁকি সামলানোর চেষ্টা করছে।

গত মাসে ট্রাম্প যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালিসহ ইউরোপের যে দেশগুলো বৃহৎ মার্কিন প্রযুক্তিকোম্পানিগুলোর ওপর করারোপের জন্য চিন্তাভাবনা করছিল আর তাতে ট্রাম্প খেপে যান এবং তাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্কারোপের হুমকি দিয়েছেন।

ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি তাদের দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বড় কোম্পানিগুলোর ওপর যেমন গুগল, অ্যামাজন, ফেসবুক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের ওপর ৩ শতাংশ ডিজিটাল সেবা কর আরোপ করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে একই ধরনের নীতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু ট্রাম্পের হুমকির কারণে তারা বড় কোম্পানিগুলোর ওপর করারোপ করার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে।

শুধু ইউরোপই যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তা নয়। এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প খুঁজছে।

বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির আলোচনা বারবার ভেঙে যাওয়ায় আমেরিকার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আর বিশ্বাস রাখতে পারছে না।

জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকেই ইরানের সঙ্গে ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ফাইল ছবি: রয়টার্স

ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যিক যুদ্ধ, সামরিক দুঃসাহসিকতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে খামখেয়ালি নীতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটির কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল এখন প্রায় সব দেশের একটি বৃহৎ বৈদেশিক নীতিতে পরিণত হয়েছে।

সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর তেল নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে।

এশিয়ার দেশগুলো এখন চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করছে। বিশেষ করে আমেরিকার সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোতে নির্ভরযোগ্য প্রবেশাধিকার নিয়ে উদ্বিগ্ন এশিয়ান দেশের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

এ কারণে কৌশলগত সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত অস্থিতিশীল যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে। অন্যদিকে বেইজিংকে বিবেচনায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করেছে।

আরও পড়ুন

ফলে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদেশগুলো ওয়াশিংটনের ওপর তাদের নির্ভরতা নতুন করে মূল্যায়ন করছে।

দক্ষিণ আমেরিকাতেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখন নড়বড়ে। কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে বৈরী সময় পার করছে।

কেননা বিভিন্ন পাবলিক প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার জন্য প্রস্তাব করেছেন এবং কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক আরোপ করেছেন।

তাই বিকল্প হিসেবে কানাডা এখন চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি করছে। কানাডা চীনের সঙ্গে একটি ‘নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব’ গড়ে তুলেছে।

দেশটি প্রথমবারের মতো ৫০ হাজার চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য তার বাজার খুলে দিয়েছে এবং আমেরিকান প্রতিরক্ষাশিল্পের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে গঠিত ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একটি ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা তহবিলে যোগ দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রতিবেশী রাষ্ট্র মেক্সিকোর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন

সীমান্তসংক্রান্ত বিরোধ, সাম্প্রতিক আইসিই-সংশ্লিষ্ট প্রাণহানি এবং মাদক কার্টেলগুলোর চলমান সহিংসতার কারণে মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ট্রাম্প ক্রমাগত মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে দেয়াল তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন, যা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করছে।

এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে।

২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ৪০ লাখ কম বিদেশি দর্শনার্থী যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গত বছর আট বিলিয়ন ডলারের মতো ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতের দক্ষ শ্রমশক্তি দ্রুত হারাচ্ছে।

ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আনুমানিক অন্তত ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটির শত শত বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

মোদ্দাকথা, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প যে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, তা ভিন্ন ধরনের। ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেক দেশের সঙ্গেই বৈরী সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দুর্বল বৈদেশিক নীতির কারণে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক চার বছর মেয়াদি রাজনৈতিক চক্র ধরে পরিকল্পনা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে।

এদিকে স্পষ্ট কোনো বিকল্প অংশীদার না থাকায় অধিকাংশ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিবর্তে ধীরে ধীরে নিজেদের ঝুঁকি সামলানোর চেষ্টা করছে।

তাই বলা যায়, ট্রাম্পের পর যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হবেন, তিনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্র তাদের জন্য কী করতে পারে—এ প্রশ্ন না করে বরং যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই যতটা সম্ভব এগিয়ে যাবে বা এগিয়ে যাওয়ার উপায় খুঁজবে এবং এই পরিবর্তিত বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর একক কোনো পরাশক্তি নয়।

আমেরিকা ফার্স্ট নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে বাইরের বিশ্ব থেকে ক্রমশ একা করে দিচ্ছে।

  • সানজিদা বারী ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় শিকাগোতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ডক্টরাল ফেলো হিসেবে অধ্যয়নরত।

    ই–মেইল: [email protected]

    * মতামত লেখকের নিজস্ব।