বিবৃতিতে সই করেছেন ফ্রান্সের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট ফ্যাবিয়াস, জাতিসংঘের সাবেক জলবায়ু প্রধান ক্রিস্টিয়ানা ফিগুয়েরেস, ফরাসি জলবায়ু দূত লরেন্স তুবিয়ানা। তাঁরা সবাই ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির খসড়া প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

প্যারিস চুক্তির কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘২০১৫ সালে বিশ্ব একবার এক হয়েছিল। এখন আবারও এক হওয়ার সময় এসেছে। ২০৩০ সালের আগেই বাসযোগ্য বিশ্ব গড়তে দ্রুত সম্মিলিত উদ্যোগ নিন।’ বিশ্বনেতাদের প্রতি বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা বারবার সুযোগ নষ্ট করতে পারি না, এখন সাহসী নেতৃত্ব প্রয়োজন।’

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে বুধবার দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে তাদের আগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ চালু রাখার কথা বলেছে। তবে জলবায়ু বিশ্লেষকদের দাবি, এটা পর্যাপ্ত নয়। বিশ্ববাসী এসব দেশের কাছে আরও সুনির্দিষ্ট কিছু প্রত্যাশা করে।

এ বিষয়ে আজ কপ–২৭ সম্মেলনে ঘানার আলোচক হেনরি কোকোফু বলেন, ‘জি–২০–এর ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানাই। তবে এসব দেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যের বিষয়ে নিজেদের উদ্যোগ বাড়াতে হবে এবং তা সময় ফুরানোর আগেই করতে হবে।’

বারবাডোজের প্রধানমন্ত্রীর জলবায়ু অর্থায়নবিষয়ক বিশেষ দূত অভিনাশ প্রসাদ আজ কপ–২৭ সম্মেলনে বলেন, ‘জি–২০ নেতারা জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে তাঁরা বড় একটি সুযোগ হাতছাড়া করেছেন।’

আমাজনে সম্মেলন চান লুলা
২০২৫ সালে আমাজন অঞ্চলে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন আয়োজনের আশা প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের নবনির্বাচিত বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। আজ কপ–২৭ সম্মেলনে অংশ নিয়ে লুলা বলেন, ‘২০২৫ সালে আমি এ সম্মেলন ব্রাজিল, বিশেষত ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলে আয়োজন করতে চাই। এ বিষয়ে আমি জাতিসংঘ মহাসিচবের সঙ্গে কথা বলব।’

আমাজন বন রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন লুলা। এ বিষয়ে তিনি তাঁর পূর্বসূরি জইর বলসোনারোর বন উজাড়ের নীতি ছুড়ে ফেলবেন বলে জানিয়েছেন। তাই মিসরে এবারের জলবায়ু সম্মেলনে লুলার অংশগ্রহণ আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। সম্মেলনস্থলে আলোচক ও অংশগ্রহণকারীরা তাঁকে সাদরে স্বাগত জানিয়েছেন।