নোয়াখালীর ছয়টি আসনে ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তন্ময় দাস। গতকাল রোববার দিনভর যাচাই-বাছাইয়ে ঋণখেলাপি, ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর এবং দলীয় মনোনয়ন না থাকায় এসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচটি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে। বাছাই শেষে জেলার ছয়টি আসনে বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৬০ জন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে ১ শতাংশের কম ভোটারের স্বাক্ষর থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোজাহেদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এ আসনে বাকি ১২টি মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় বাতিল করা হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) মো. আতাউর রহমান ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র। এ আসনের বাকি ৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে ১ শতাংশের কম ভোটারের স্বাক্ষর থাকায় বাতিল করা হয় স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম সাইফুর রহমান, স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আফতাব উদ্দিন, আবু বকর ছিদ্দিক এবং দলীয় মনোনয়নের চিঠি না থাকায় বিএনপির শামীমা বরকত ও আওয়ামী লীগের আক্তার হোসেন ফয়সলের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আসনে বাকি ১১টি মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
অপর দিকে, নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনে ঋণখেলাপি হওয়ায় বিএনপির প্রার্থী মোসাম্মত শাহীনুর বেগমের ও ভোটারের ভুয়া স্বাক্ষরের দায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী জান্নাতুল ফেরদাউসের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আসনের বাকি ৮টি মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ভোটারের ভুয়া স্বাক্ষরের দায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইকবাল রাশেদের এবং ভুয়া স্বাক্ষর দাখিল ও ঋণখেলাপি হওয়ায় সাইফ উদ্দিন আহম্মেদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ আসনের বাকি ১০টি মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট) আসনের ১০টি মনোনয়নপত্রের সব কটিই বৈধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে ১১টি মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তন্ময় দাস।
প্রথম আলোকে তন্ময় দাস বলেন, ঋণখেলাপি, ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকায়, স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় এবং দলীয় মনোনয়ন না থাকায় এসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।