নোয়াখালীর ৩২ বেসরকারি কলেজের ২১টিরই পাসের হার ৫০ ভাগের নিচে

এইচএসসির ফলাফলে নোয়াখালীর বেশির ভাগ কলেজে ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। সরকারি, বেসরকারি কোনোটির ফল ভালো নয়। হতাশাজনক ফলাফল করেছে সরকারি অনুদানভুক্ত বেসরকারি কলেজগুলো।

এর মধ্যে আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছে ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত জেলার একমাত্র কলেজ নোয়াখালী সায়েন্স অ্যান্ড কমার্স কলেজ। কলেজটি থেকে ২৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছেন। এর মধ্যে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালীতে সরকারি, বেসরকারি কলেজ ৪০টি। এর মধ্যে সরকারি আটটি, বাকিগুলো বেসরকারি। সরকারি কলেজগুলোর মধ্যে নোয়াখালী সরকারি কলেজ কুমিল্লা বোর্ডে শীর্ষ বিশে স্থান পেলেও পাসের হার ৭৭ দশমিক ৪২। পাশাপাশি নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের পাসের হার মাত্র ৫৭ দশমিক ৪৫ এবং চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজের পাসের হার ৭০ দশমিক ৬৯। অথচ এই তিনটি কলেজেই জেলার বেশির ভাগ সেরা ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়।

এ ছাড়া তিনটি সরকারি কলেজে পাসের হার ৫০ ভাগের নিচে। কলেজগুলো হলো চাটখিল সরকারি কলেজ ৪৭ দশমিক ৭১, হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ ৩১ দশমিক শূন্য ৯ ও সেনবাগ সরকারি কলেজ ৩৯ দশমিক ১৩। কলেজগুলোর প্রশাসনের পক্ষ থেকে খারাপ ফলের জন্য শিক্ষক-সংকট ও শিক্ষার্থীদের অমনোযোগিতাকে দায়ী করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক অভিভাবক প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষক-সংকট সব কলেজেই কমবেশি রয়েছে। কিন্তু যেসব শিক্ষক আছেন, তাঁরাও ঠিকমতো ক্লাস করান না। ছাত্রছাত্রীরাও ঠিকমতো শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত থাকে না। তাই এই দুরবস্থা।

অভিভাবকদের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আল-হেলাল মোশারফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কলেজে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, বাড়িতে অভিভাবকদের যথাযথ তদারকি না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করতে পারছে না।’

অন্যদিকে, বেসরকারি বেশির ভাগ কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলেও ফলাফল একেবারেই হতাশাব্যঞ্জক। ৩২টি বেসরকারি কলেজের মধ্যে ২১টিরই পাসের হার ৫০ ভাগের নিচে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে হাতিয়া কমিউনিটি কলেজ। কলেজটির পাসের হার মাত্র ১২ দশমিক ৫০ ভাগ। সেনবাগের বিজবাগ এলাকার অভিভাবক ছালেহ আহমদ জানান, তাঁদের কলেজটিতে শিক্ষক থাকলেও তাঁরা কলেজে আসা-যাওয়া করেই নিজেদের দায়িত্ব শেষ করেন। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পড়া আদায় করেন না, যে কারণে ফলাফলে এ বিপর্যয় ঘটেছে।

এ প্রসঙ্গে চরজব্বার কলেজের উপাধ্যক্ষ গিয়াসউদ্দিন ফরহাদ জানান, সৃজনশীল প্রশ্নপত্র চালু করায় অনেক শিক্ষার্থী এ পদ্ধতি বুঝে উঠতে পারেনি। তা ছাড়া দ্রুত ও পর পর সিলেবাস পরিবর্তনের কারণে ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।