দাবি পরিবারের

বিয়ের পর থেকেই এলমার ওপর শুরু হয় নির্যাতন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এলমা চৌধুরী
এলমা চৌধুরী

ফ্রান্সে এক স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এলমা চৌধুরীকে (মেঘলা) বিয়ে করেছিলেন ইফতেখার আবেদীন। অর্থবিত্তে এগিয়ে থাকা ইফতেখারের ব্যাপারে শুরু থেকেই এলমার পরিবারের খটকা ছিল। তবু মেয়ের ইচ্ছার কাছে হার মানতে হয়েছিল তাঁদের।

এলমার পরিবার গতকাল এ দাবি করেছে। গত মঙ্গলবার এলমার মৃত্যু হয়। তাঁর সারা শরীরে ছিল আঘাতের চিহ্ন। এলমার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে বনানী থানায় গতকাল ইফতেখার আবেদীনকে ১ নম্বর আসামি করে মামলা করেন। এই মামলায় অপর দুই আসামি ইফতেখারের মা শিরিন আমিন ও পালক বাবা সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. আমিন।

এদিকে এলমা চৌধুরী হত্যা মামলায় গতকাল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত ইফতেখার আবেদীনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। অপর দুই আসামি এখনো পলাতক।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে গতকাল মেয়ের লাশ বুঝে নিতে এসেছিলেন বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, মাসখানেকের পরিচয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে ইফতেখারকে বিয়ে করেন এলমা। ইফতেখারের মা-বাবাই বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে এসেছিলেন। বিয়ের পরদিন থেকেই নির্যাতন শুরু। এমনকি ধামরাইয়ে এলমাদের বাড়িতে গিয়েও থেমে থাকেননি ইফতেখার। তাঁরা এলমাকে আর ইফতেখারের সঙ্গে ফিরতে দিতে চাননি। আর কখনো নির্যাতন করবেন না, এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলমাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে যান ইফতেখার। বাসায় গিয়েই এলমার ফোনটা কবজা করেন তিনি, পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে নিষেধ করে দেন।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জানাজার পর রাতেই ধামরাইয়ে এলমাকে দাফন করা হয়।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এলমাকে ‘হত্যা’র ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।