বাংলাদেশ শ্রম আইনে কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হলে তা প্রতিকারের জন্য সুস্পষ্ট কোনো ধারা নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ করলে চাকরি হারানোর ভয়েও নারীরা মুখ খোলেন না। আইনে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ধারা সংযোজনের পাশাপাশি নারীরা যাতে অভিযোগ জানাতে পারেন, সে ধরনের কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
আজ বুধবার ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ডের তুলনামূলক পর্যালোচনা: নারী শ্রমিক সম্পর্কে বাংলাদেশ শ্রম আইন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় আলোচকেরা এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) সখী প্রকল্পের সহযোগিতায় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। রাজধানীতে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে এ সভায় সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন।
সভায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ডের তুলনামূলক আলোচনার সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেন ব্লাস্টের রিসার্চ স্পেশালিস্ট (জেন্ডার সমতা) নাওমি নাজ চৌধুরী। তিনি বলেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও বেতন, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ, ঝুঁকি কমানোসহ অনেক ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড থেকে বাংলাদেশের শ্রম আইন নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। নারী শ্রমিকদের সুরক্ষায় আলাদা আইন তৈরি, আইন কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে তা দেখার জন্য একটি জাতীয় মনিটরিং মেকানিজম গঠন এবং জনগণকে সচেতন করার জন্য একটি ক্যাম্পেইন তৈরির সুপারিশ করেন তিনি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, শ্রমিকদের জন্য আলাদা একটি ক্ষতিপূরণ আইন প্রণয়ন করা জরুরি। আইনে কারখানায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে। শ্রম আদালতের সংখ্যাও বাড়াতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নুরুন নাহার ওসমানী বলেন, দেশে আইনের কমতি নেই, তবে আইনের প্রয়োগ নেই। আইনের প্রয়োগ তদারকি করার দায়িত্ব যে প্রতিষ্ঠানের সেই কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর কতটুকু দায়িত্ব পালন করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আলোচনায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. সামছুজ্জামান ভুইয়া জনবল-সংকটের কথা উল্লেখ করে জানান, জনবল না বাড়ানো হলে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন। এ ছাড়া শ্রম আইনেও কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে ইচ্ছা থাকলেও সব সময় তাঁরা কাজ করতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেন।
কর্মজীবী নারীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাংসদ শিরিন আখতার বলেন, ৮০ ভাগ শ্রমিকই শ্রম আইনের সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছে। যে ২০ শতাংশ আইনের আওতায় আছে, তাদের মাত্র ২ ভাগ ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের দূত লিওনি মারগারাথা কুয়েলিনিয়ার নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে নারীদের সংঘবদ্ধ হওয়া এবং নেতৃত্বে আসার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ, লেবার কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সেলিম আহসান খান, নারীপক্ষের সদস্য মাহীন সুলতান প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।