
মুক্তিযোদ্ধারা যাতে তাঁদের কার্ড দেখিয়ে সপ্তাহে এক দিন সচিবালয়ে ঢুকতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। আজ বৃহস্পতিবার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার কার্ড হয়তো পেয়েছেন অনেকেই। আমি ফটকে বলে বলে দেব, যাতে মুক্তিযোদ্ধারা সেই কার্ড দেখিয়ে ঢুকতে পারেন। সপ্তাহে এক দিন। এর জন্য সবাইকে নোটিশ দেওয়া হবে। তাঁদের যাতে সম্মান প্রদর্শন করা হয়।’
রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) মহান বিজয় দিবস-২০২২ উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করে ঢাকা উত্তর সিটি। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করলে দেশও সম্মানিত হবে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নও বাস্তবায়িত হবে বলেও মন্তব্য করেন আসাদুজ্জামান খান।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করে মন্ত্রী বলেন, ‘এই বিজয়ের মাসে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। ঢাকায় যা দেখেন, এর চতুর্দিকে চলে আসছিলাম। আর এক মাস হলে হয়তো আমরা নিজেরাই ঢুকে যেতে পারতাম, মানে ঢাকা দখল করতে পারতাম। কারণ, আমরা এতটাই উজ্জীবিত ছিলাম, কোনো কিছুতেই ভয় পেতাম না। অনেককে আহত–নিহত হতে দেখেও আমরা বসে থাকিনি।’
সীমান্তের ওপারে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের কবর দেশে আনার বিষয়ে বলেন, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের অনেক সীমান্ত এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের কবর আছে। প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এটি জানেন। এই কবরগুলো যুদ্ধের সময় যাঁরা শাহাদাতবরণ করেছেন, তাঁদের কবর। সেই কবরগুলো চিহ্নিত করে দেশে নিয়ে আসা হবে।
শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর আস্থা রাখেন উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর যে কতটুকু নির্ভর করেন, আস্থা রাখেন, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। শেখ হাসিনা যত দিন থাকবেন, তত দিন দেশ আর অন্ধকারে থাকবে না, আলোকিত থাকবে। মুক্তিযোদ্ধারা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন শেখ হাসিনার পাশে থাকবেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি। ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।