‘শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’–এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
‘শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’–এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

ওসমান হাদির মধ্যে স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্বের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছিল মানুষ: সংস্কৃতি উপদেষ্টা

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছিল মানুষ। এ জন্য তাঁর জানাজায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে এসেছিলেন।

বৃহস্পতিবার ‘শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’–এর সমাপনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তরুণ কলাম লেখক ফোরামের যৌথ উদ্যোগে ১৮ জানুয়ারি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে পাঁচ দিনব্যাপী এ বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজার কথা আপনাদের সবার নিশ্চয়ই মনে আছে। অবিশ্বাস্য ব্যাপার! হাদির বয়স কত ছিল, ৩১–৩২ এ রকম হবে। এই বয়সের একটা ছেলের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে এসেছে, জানাজায় আহাজারি করে কেঁদেছে। এর কারণটা কী আসলে? এর কারণটা সিম্পল—তারা হাদির মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছে।’

এ সময় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘এত কিছুর ভিড়ে আমরা শহীদ হাদির আরেকটি পরিচয় হারিয়ে ফেলছি, সেটি হলো হাদি কিন্তু একজন কবি ছিলেন। তাঁর এই পরিচয়ও কিন্তু আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

অনুষ্ঠানে শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি বলেন, ‘আপনাদের কাছে একটাই অনুরোধ করব, শহীদ ওসমান হাদিকে যদি আপনারা বাঁচিয়ে রাখতে চান, গানে, কবিতায়, শিল্পে ও সাহিত্যে হাদিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আপনারা আমাকে ওয়াদা করেন, যে পরিস্থিতিই আসুক, ওসমান হাদির বিচারের দাবি থেকে আপনারা কখনো সরে আসবেন না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘গত দুই দশকের মতো সময় আমরা আসলে স্বাধীন ছিলাম না। এর অন্যতম কারণ আমাদের সংস্কৃতি পরাধীন হয়ে গিয়েছিল। আমাদের সংস্কৃতি দখল হয়ে গিয়েছিল। সেই সংস্কৃতিকে পুনরুদ্ধার করার যুদ্ধ যাঁরা করেছেন, জুলাই বিপ্লবের পাশাপাশি সেই আন্দোলনের প্রধান পুরোধা শহীদ ওসমান হাদি। শহীদ ওসমান হাদি আমাদের সেই সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার করেছেন।’

সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমরা আজকে এখানে কাওয়ালির আয়োজন দেখছি, এটা একসময় ভাবা যেত না। আমরা আশা করব, আজকে যাঁরা এই আয়োজন করেছেন, ডাকসু ও তরুণ লেখক ফোরাম এবং শহীদ ওসমান হাদির যত অনুসারী আছেন, আপনারা আমাদের এই সাংস্কৃতিক চেতনা জিইয়ে রাখবেন। বাংলার মানুষের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে আপনারা ছড়িয়ে দেবেন। তাহলেই শহীদ ওসমান হাদির প্রতি সম্মান জানানো হবে। স্বাধীন বাংলাদেশ, স্বাধীন সংস্কৃতি, স্বাধীন ভাষা, স্বাধীন মাতৃভূমির উদ্দেশ্য সফল হবে।’

ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক মাহফুজুর রহমান, ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সভাপতি আশিক খান প্রমুখ।

পাঁচ দিনব্যাপী এই বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে মিউজিক ব্যান্ড ‘কাসিদা’, ‘হ্যাভেন টিউন’সহ কয়েকটি শিল্পীগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করে।