বিবিসি মাস্টারশেফ ২০২৬—যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় রান্নার প্রতিযোগিতা। এবারের এ আয়োজনে বাজিমাত করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আনিশা বেগম। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এরই মধ্যে তিনি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বে উঠেছেন।
২৬ বছর বয়সী আনিশা পেশায় একজন ডিজিটাল (ডিজিটাল প্রযুক্তিবিষয়ক) প্রকৌশলী। তবে রান্নার প্রতি আগ্রহ অসীম। আর এ আগ্রহ থেকেই তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনিশা জানান, কয়েক বছর ধরে ডিজিটাল প্রকৌশলে পেশাজীবন গড়তে মনোযোগী ছিলেন তিনি। এভারটন স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে কাজ করেছেন। এখন সাইজওয়েল সি নিউক্লিয়ার প্রকল্পে যুক্ত আছেন।
পেশাজীবনের বাইরে রান্না ছিল সব সময়ই পছন্দের জায়গা। যদিও আগে সেটিকে তেমন গুরুত্ব দিয়ে সময় দেওয়া হয়নি। এ বছর নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে ভিন্ন কিছু করার আগ্রহ থেকেই মাস্টারশেফে অংশ নেওয়া, বলেন আনিশা।
আনিশা লন্ডনের এনফিল্ডে স্বামী জেহানের সঙ্গে বসবাস করেন। তাঁর রান্নার ধরন বৈচিত্র্যময়। ব্রিটিশ ক্ল্যাসিক থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশীয় ও পূর্ব এশীয় স্বাদের মিশ্রণ তাঁর রান্নায় দেখা যায়। তিনি এমন সব খাবার তৈরি করতে পছন্দ করেন, যা তাঁর দক্ষিণ এশীয় স্বাদের সঙ্গে মানানসই হয়।
একই সঙ্গে বিভিন্ন রেসিপি বই, কনটেন্ট নির্মাতার ভিডিও, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্ট্রিট ফুড এবং তারকা রেস্তোরাঁ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সেই খাবারগুলো নতুনভাবে রান্না করতে পছন্দ করেন আনিশা। তাঁর রান্নায় পারিবারিক প্রভাবও স্পষ্ট।
আনিশার বাবা রেস্তোরাঁয় রান্না করতেন। মা বাড়িতে রান্না করতেন। এই দুজনের রান্নার ধরন আর অভিজ্ঞতা থেকেই নিজের রান্নার হাত তৈরি হয়েছে বলে জানান আনিশা। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। স্থানীয় টেকঅ্যাওয়ের মাধ্যমে খাবার অর্ডার করতেন। কিন্তু সেই খাবারের স্বাদ খুব একটা মনের মতো হতো না। তাই নিজেই রান্নায় আগ্রহী হন। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে স্বাদ ও সৃজনশীলতার দক্ষতা বাড়ান।
আনিশার স্বামী তুর্কি বংশোদ্ভূত সাইপ্রিয়ট। তাই নিত্যদিনের রান্নায় বাঙালি-তুর্কি ফিউশন নিয়ে নিরীক্ষা করা তাঁর পছন্দের কাজ। বিভিন্ন সংস্কৃতির স্বাদের মিশেলে নতুন কিছু তৈরি করতে চান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনিশা বলেছেন, মানুষ কেবল একটি পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। কাজের বাইরেও নিজের পছন্দের বিষয়গুলোতে সময় দিলে তার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে।
ভবিষ্যতে আনিশা তাঁর রান্না বিশ্বজুড়ে মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান। সেটা টেলিভিশনের পর্দা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—যেকোনো প্ল্যাটফর্মে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে সেখানকার স্বাদ ও প্রভাব নিজের রান্নায় নিয়ে আসার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
এর আগে ‘বিবিসি মাস্টারশেফ’-এর সেমিফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইসমাইল হোসেন। এ ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বে প্রতিযোগিতায় আছেন সাবিনা খান। রান্নার আন্তর্জাতিক এ মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ প্রবাসীদের মধ্যে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে।