
পবিত্র রমজানে ইবাদত আর প্রশান্তির মধ্যে রান্নাঘরের ব্যস্ততা জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে বর্তমানে অনেক সংসারেই রান্নার জ্বালানি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে। একদিকে সিলিন্ডার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম এবং লাইনের গ্যাসের অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে আকাশচুম্বী বিদ্যুৎ বিলের শঙ্কা—সব মিলিয়ে গৃহিণীদের যেন দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
তবে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। আধুনিক সব কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সের ব্যবহারে রান্না এখন হয়ে উঠছে আরও দ্রুত ও নিরাপদ। সঠিক প্রযুক্তির সমন্বয় রমজান মাসকে করতে পারে আরও আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী।
অনেকের মনেই ভয় থাকে যে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল আকাশচুম্বী হবে। কিন্তু বর্তমান বাজারে একটি ১২ থেকে ১৮ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ও স্থায়িত্ব বিবেচনা করলে দেখা যায়, প্রতি মাসে রান্নার গড় খরচ দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।
বিপরীতে ভিশনের মতো ব্র্যান্ডগুলোর ইন্ডাকশন কুকারে অপচয় নেই বললেই চলে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, উন্নত মানের একটি ইলেকট্রিক চুলায় একেকটি ছোট পরিবার মাত্র ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকার বিদ্যুৎ খরচেই পুরো মাসের সাহ্রি ও ইফতারের রান্না অনায়াসেই সেরে নিতে পারে। ফলে সিলিন্ডার গ্যাসের চেয়ে এখানে সাশ্রয় হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ।
গ্যাস স্টোভে রান্নার সময় আগুনের তাপের একটি বড় অংশই বাতাসের সঙ্গে মিশে অপচয় হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, গ্যাস স্টোভের এনার্জি ইফিশিয়েন্সি মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ আপনি যে পরিমাণ টাকা খরচ করছেন, তার অর্ধেকের বেশিই অপচয় হচ্ছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন অপরিহার্য। যেমন ভিশনের মতো উন্নত মানের ইন্ডাকশন কুকারগুলো সরাসরি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড ব্যবহার করে রান্নার পাত্রকে উত্তপ্ত করে। এই পদ্ধতিতে তাপের অপচয় হয় না বললেই চলে এবং এর কার্যক্ষমতা প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। রান্নার এই আধুনিক প্রক্রিয়া যেমন সময় বাঁচায়, তেমনি দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি খরচ কমিয়ে পকেটের সাশ্রয় নিশ্চিত করে।
বিশেষ করে রমজানে ইফতার বা সাহ্রির সময় হাতে খুব কম থাকে। ইফতারের আগের ব্যস্ততায় বা সাহ্রির সময় দ্রুত খাবার গরম করার ক্ষেত্রে ইন্ডাকশন কুকার একটি কার্যকর সমাধান হয়ে উঠছে। সাধারণ গ্যাসের চুলার তুলনায় এতে পানি ফুটতে প্রায় অর্ধেক সময় লাগে। রান্নার এই দ্রুতগতির কারণে সময় যেমন বাঁচে, তেমনি বিদ্যুৎ বিলও থাকে সাশ্রয়ী ও নিয়ন্ত্রিত।
একটি ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের বর্তমান বাজারদর এবং এর স্থায়িত্বের তুলনায় বিদ্যুৎ খরচ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্মার্ট প্রযুক্তির ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করলে মাসে গড়ে বিদ্যুৎ বিল গ্যাসের সিলিন্ডারের চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করেন, তাঁরা রান্নার সময় ভোল্টেজ কন্ট্রোল করে খরচ আরও কমিয়ে আনতে পারেন।
গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি রমজানের দুশ্চিন্তাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। ইন্ডাকশন কুকারে সরাসরি আগুনের ব্যবহার নেই বলে এটি তুলনামূলক অনেক বেশি নিরাপদ। এ ছাড়া এতে রান্নাঘর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয় না, যা রোজা রেখে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ক্ষেত্রে আরামদায়ক। খরচ সাশ্রয়, রান্নার গতি ও নিরাপত্তা—সব মিলিয়ে আধুনিক গৃহিণীদের পছন্দের তালিকায় এখন শীর্ষে উঠে আসছে ইন্ডাকশন কুকার। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সঠিক পাত্র ব্যবহার ও রান্নার প্রস্তুতি গুছিয়ে নিলে বিদ্যুৎ বিল একদম হাতের মুঠোয় রাখা সম্ভব।