রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্মার্টফোন ও গ্যাজেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের (এমবিসিবি) মানববন্ধন
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্মার্টফোন ও গ্যাজেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের (এমবিসিবি) মানববন্ধন

এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে দোকান বন্ধের ঘোষণা মুঠোফোন ব্যবসায়ীদের

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার সারা দেশে দোকানপাট বন্ধ রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা। আজ বৃহস্পতিবার রাতে স্মার্টফোন ও গ্যাজেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের (এমবিসিবি) সিনিয়র সহসভাপতি শামীম মোল্লা প্রথম আলোকে এ কথা জানান।

শামীম মোল্লা বলেন, ‘সরকারের কোনো সংস্থাই ব্যবসায়ীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। একের পর এক সরকারি দপ্তর আমাদের আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো প্রতিফলন আমরা পাইনি। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বলতে হচ্ছে, খোদ বিটিআরসি চেয়ারম্যানও তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর মাধ্যমে সারা দেশের মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা নিজেদের গভীরভাবে প্রতারিত মনে করছেন।’

এমন পরিস্থিতিতে অন্য কোনো বিকল্প না পেয়ে তাঁরা বাধ্য হয়ে সারা দেশের মুঠোফোনের দোকানপাট বন্ধ রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করছেন বলে দাবি করেন এমবিসিবির সিনিয়র এই সহসভাপতি।

কর ফাঁকি রোধ এবং অবৈধ ও নিম্নমানের হ্যান্ডসেট আমদানি বন্ধ করতে সরকার এনইআইআর পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেয়। এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে অবৈধভাবে দেশে আসা ফোন আর নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি বিদেশ থেকে অবৈধভাবে আনা পুরোনো ফোনের ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যাবে।

সরকারের অভিযোগ, এসব ব্যবসায়ীর একটি অংশ অবৈধ পথে কর ফাঁকি দিয়ে নিম্নমানের, ক্লোনড ও ব্যবহৃত পুরোনো ফোন দেশের বাজারে সরবরাহ করছে।

এনইআইআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে কয়েক দিন ধরেই মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করে আসছিলেন। এনইআইআর সংস্কার, একচেটিয়া সিন্ডিকেট প্রথা বিলোপ এবং মুঠোফোনের উন্মুক্ত আমদানির সুযোগ সৃষ্টির দাবিতে গত নভেম্বরেও সংগঠনটির ডাকে ঢাকাসহ সারা দেশে মুঠোফোনের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছিল।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে এনইআইআর চালু করেছে বিটিআরসি। এর প্রতিবাদে আজ বিকেলে বিটিআরসি ভবন ঘেরাও ও সেখানে ভাঙচুর চালান মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা। বিক্ষোভ চলাকালে সেনাবাহিনী বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে।