
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।
যেসব অধ্যাদেশ অনুমোদন হচ্ছে না, সেগুলো ১০ এপ্রিলের পর কার্যকারিতা হারাবে।
এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে পরে নতুন করে বিল আনার কথা বলেছে সরকারি দল।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধানক্ষমতা বাড়াতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনে সংশোধন এবং গুমের মতো অপরাধ প্রতিরোধে আইনি সংস্কার এনেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এ জন্য কিছু অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল; কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যাদেশগুলো এখনই সংসদে অনুমোদন করা হচ্ছে না। ফলে ১০ এপ্রিলের পর থেকে এসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিচার বিভাগ, দুদক, মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যত বেশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ পায়, সরকারের একচ্ছত্র ক্ষমতা তত সীমিত হয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। এ লক্ষ্যে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের যে উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের যাত্রার শুরুর দিকেই তা হোঁচট খেল। অন্যদিকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।
অবশ্য ক্ষমতাসীন দল বিএনপি বলছে, তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং ভিন্নমতসহ যেভাবে জুলাই সনদ সই হয়েছিল, সেভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া দুদক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে সংস্কার, গুম প্রতিরোধে করা অধ্যাদেশসহ কিছু বিষয় যাচাই–বাছাই করে আরও শক্তিশালী করে পরবর্তী সময়ে আইন করার সুপারিশ আছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি কবে নাগাদ এবং কতটা ‘শক্তিশালী’ আইন করবে, তা এখন দেখার বিষয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিচার বিভাগ, দুদক, মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যত বেশি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ পায়, সরকারের একচ্ছত্র ক্ষমতা তত সীমিত হয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। এ লক্ষ্যে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের যে উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের যাত্রার শুরুর দিকেই তা হোঁচট খেল।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো (১২ মার্চ) উপস্থাপন করা হয়। ১০ এপ্রিলের মধ্যে কোনো অধ্যাদেশ সংসদ অনুমোদন না করলে সেটা কার্যকারিতা হারাবে।
অধ্যাদেশগুলো যাচাই–বাছাই করে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ১১৩টি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল করা এবং ১৬টি এখনই সংসদে বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। এই ১৬টি পরবর্তী সময়ে যাচাই–বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে। এর মধ্যে আছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত একটি, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়সংক্রান্ত দুটি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত তিনটি, গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত দুটি, দুদকসংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ।
আগামী সোমবার থেকে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের কার্যক্রম শুরু করবে জাতীয় সংসদ। যেসব অধ্যাদেশ অনুমোদন করা হচ্ছে, সেগুলোর পাশাপাশি যে চারটি রহিত করা হবে, সেগুলোও বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। সব মিলে বিল আনা হবে ১১৭টি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিল উত্থাপনের পর এখানে সংশোধনী প্রস্তাব দিয়ে আলোচনার সুযোগ পাবেন বিরোধী দলের সদস্যরা; কিন্তু তাঁদের সংশোধনী গ্রহণ করা হবে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে সরকারের মর্জির ওপর। কারণ, সংসদে যেকোনো আইন এমনকি সংবিধান সংশোধন করার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির।
বিশেষ কমিটির সদস্য জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পরবর্তী সময়ে নতুন বিল আনা হবে। তিনি বলেন, গুমের বিরুদ্ধে কার্যক্রম গ্রহণে তাঁরা একমত। এটিসহ দুদককে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার কমিশন—এগুলোর ক্ষেত্রেও কিছু সংশোধনীসহ পরবর্তী সময়ে বিল আনা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের এ–সংক্রান্ত নির্দেশনাও দেওয়া আছে। এ অধিবেশনে না হলে আগামী অধিবেশনে এসব বিষয়ে সংশোধিত আকারে নতুন বিল আনা হতে পারে বলে জানান চিফ হুইপ।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিল উত্থাপনের পর এখানে সংশোধনী প্রস্তাব দিয়ে আলোচনার সুযোগ পাবেন বিরোধী দলের সদস্যরা; কিন্তু তাঁদের সংশোধনী গ্রহণ করা হবে কি না, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে সরকারের মর্জির ওপর।
বিচার বিভাগে কী পরিবর্তন
বিদ্যমান সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করে বিচারক নিয়োগ দেবেন। কিন্তু ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য কাজ করবেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী।
সংবিধানে বিচারক হওয়ার অযোগ্যতা সম্পর্কে বলা আছে। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে, সুপ্রিম কোর্টে অন্তত ১০ বছর আইনজীবী হিসেবে বা অন্তত ১০ বছর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে না থাকলে অথবা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক পদে নিয়োগলাভের জন্য আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে তিনি বিচারক পদে নিয়োগের যোগ্য হবেন না।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই আইন থাকলে অধিকতর যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের সুযোগ বাড়ে; কিন্তু বর্তমান সরকার এই অধ্যাদেশ অনুমোদন করছে না। ফলে নতুন আইন না হওয়া পর্যন্ত বিচারক নিয়োগ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।
অতীতে কোনো সরকার বিচারক নিয়োগের আইন করেনি। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিচার বিভাগে রাজনৈতিকীকরণের অভিযোগও ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ করে। তাতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করবে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র এই কাউন্সিল যোগ্য ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতি বরাবর সুপারিশ করবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই আইন থাকলে অধিকতর যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগের সুযোগ বাড়ে; কিন্তু বর্তমান সরকার এই অধ্যাদেশ অনুমোদন করছে না। ফলে নতুন আইন না হওয়া পর্যন্ত বিচারক নিয়োগ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।
জুলাই জাতীয় সনদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে সংবিধানে স্বাধীন ‘জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের বিধান যুক্ত করার সুপারিশ আছে। এটিতে অবশ্য বিএনপির ভিন্নমত ছিল। দলটি বলেছিল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হবে।
অন্যদিকে অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ করা হয়। এ অধ্যাদেশ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে। বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটিবিষয়ক সব সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় এই সচিবালয়ের হাতে থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিবালয়ের সচিব প্রশাসনিক প্রধান হবেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই অধ্যাদেশ বিচার বিভাগ তথা অধস্তন আদালতের ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রভাব খর্ব করার পথ তৈরি করেছিল। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জুলাই জাতীয় সনদেও নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে কার্যকরভাবে পৃথক করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব সচিবালয় করার প্রস্তাব আছে। বিএনপিসহ ৩২টি দল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে এ প্রস্তাবে একমত হয়েছিল। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিচারক নিয়োগে আইন করার প্রতিশ্রুতি আছে বিএনপির। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি কবে নাগাদ এ–সংক্রান্ত আইন করবে এবং সেগুলো কেমন হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বাধার মুখে পড়ল। যে অধ্যাদেশগুলো মানুষের জন্য কল্যাণকর, সেগুলো তারা অনুমোদন করছে না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কেন ক্ষমতাসীনদের অনীহা, তা বোধগম্য নয়।সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার
আরও কিছু প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার
বহুল আলোচিত গুম প্রতিরোধে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। গুম থেকে সব ব্যক্তিকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিধানাবলি বাংলাদেশের আইনি কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এ অধ্যাদেশ করা হয়। এতে গুমকে ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এটি আপাতত অনুমোদন করা হচ্ছে না।
মানবাধিকার কমিশন কতটা স্বাধীন ও কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সংস্থাটিকে প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন ও কার্যকর করতে কিছু মৌলিক পরিবর্তন এনে অধ্যাদেশ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। বিরোধী দলের ভাষায়, অধ্যাদেশে কমিশনকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়। এতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডে একটি কার্যকর ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং স্বেচ্ছাচারিতা হ্রাস পাবে।
দুদকের তদন্ত ও গোপন অনুসন্ধান ক্ষমতা বাড়িয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করা হয় ২০২৫ সালে। এতে সরাসরি এজাহার দায়েরের বিধান, বিদেশে সংঘটিত অপরাধসহ গুরুতর আর্থিক অপরাধকে আইনের আওতায় আনা, কমিশনের সদস্য বাড়ানোর বিধান করা হয়। অবশ্য দুদক অধ্যাদেশেও অনেক দুর্বলতা আছে বলে মনে করেন অংশীজনদের কেউ কেউ।
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠকে এই অধ্যাদেশগুলো সংসদে অনুমোদনের পক্ষে অবস্থান ছিল বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর। ওই কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন দলটির সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান ও গাজী নজরুল ইসলাম। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচার নিয়োগ অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যদেশসহ ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্টে তিনজন।
এই তিনজন নোট অব ডিসেন্টে বলেছেন, এসব অধ্যাদেশে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাঠামোগত সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন, জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্নীতি দমন, আর্থিক খাত এবং তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রবর্তনের চেষ্টা দৃশ্যমান।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বাধার মুখে পড়ল। যে অধ্যাদেশগুলো মানুষের জন্য কল্যাণকর, সেগুলো তারা অনুমোদন করছে না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কেন ক্ষমতাসীনদের অনীহা, তা বোধগম্য নয়। এটি মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারে সরকারের যে অনীহা, তার বহিঃপ্রকাশ কি না, মানুষের মনে সে সন্দেহ তৈরি হতে পারে।