
অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে ২০ ফেব্রুয়ারি। ইতিমধ্যেই মেলা আয়োজনের প্রস্তুতির প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমি। এবার মেলার সময় এক ঘণ্টা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মেলা প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় বাংলা একাডেমির শহীদ মনুীর চৌধুরী সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন বাংলা একাডেমির সচিব ও গ্রন্থমেলা কমিটির সদস্যসচিব মো. সেলিম রেজা। এতে বলা হয়, মেলা কমিটির একাধিক বৈঠকের পরে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত অমর একুশে বইমেলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঈদের পরে বইমেলা করার জন্য প্রকাশকদের প্রস্তাব শোনা হয়েছে। তবে এপ্রিল মাসে প্রচণ্ড দাবদাহ থাকে। ধুলোবালি থাকে, কালবৈশাখীসহ বৃষ্টির আশঙ্কা থাকে প্রবল। এমন সময়ে বইমেলা করা বাস্তবসম্মত নয়; বরং প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার মেলার স্টল ভাড়া ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকারের কাছ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। স্টল নির্মাণ শুরু হয়েছে। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে (বর্তমান বাংলা লিমিটেড)। সাংস্কৃতিক কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য আলোচক ও প্রবন্ধকারদের এ–সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে।
মেলা কমিটির সচিব জানান, গত বছর বইমেলায় ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। এবার ওই ৫২৭টি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ৫৩টি নতুন প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করে। এর মধ্যে আগে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোসহ নতুন ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মেলা আয়োজনের ৬০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, বাংলা একাডেমির একক সিদ্ধান্তে মেলা হয় না। মেলা করে ‘অমর একুশে বইমেলা পরিচালনা কমিটি’। সেখানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রকাশক, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব—সবাই রয়েছেন। সেখানেই সর্বসম্মতভাবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মেলার এই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক জানান, রমজান মাসের জন্য এবার মেলার সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে মেলা শুরু হবে। চলবে রাত নয়টা পর্যন্ত। ছুটির দিনে শিশু প্রহর থাকবে। এ ছাড়া বরাবরের মতোই বিকেলে মেলামঞ্চে আলোচনা, সন্ধ্যার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অমর একুশে উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতাসহ মেলাসংশ্লিষ্ট সব কর্মসূচি আগের মতোই থাকবে।
মহাপরিচালক জানান, রমজান মাস উপলক্ষে এবার মেলায় রোজাদারদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হবে। খাবারের স্টলগুলোতে যেন সঠিক দামে ভালো মানের ইফতারি পাওয়া যায়, সে ব্যবস্থা করা হবে। পর্যাপ্ত পানি, নামাজের স্থান আরও সম্প্রসারিত করা ও তারাবির নামাজের ব্যবস্থা করা হবে।
বরাবরের মতো এবারও সরকারপ্রধান অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন করবেন বলে মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন।