
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেছেন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান একটি বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে জন্য ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনলাইন প্রতারণা, স্ক্যামিং এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধগুলোকে এ আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রসচিব মানব পাচার প্রতিরোধে কেবল কঠোর আইনই যথেষ্ট নয়, বরং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও অধিকারের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। আইনটি গত এপ্রিলে সংসদে পাস হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর সহযোগিতায় কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ, একই মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, উপসচিব মিনারা নাজমীন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
কর্মশালায় জানানো হয়, নতুন এই আইনের মাধ্যমে মানব পাচার অপরাধের প্রকৃতি ও ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত সংস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা, সম্পত্তি জব্দ করা এবং আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার মতো যুগান্তকারী বিধান এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট বা ভিসা জালিয়াতিকেও কঠোর শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০১২ সালের আইনটি সম্পর্কে মানুষ ততটা জানত না। নতুন আইনটি জনগণকে জানানো জরুরি, মানুষ যাতে সচেতন হয়। সরকার নতুন আইন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।
মূল প্রবন্ধে তারিকুল ইসলাম বলেন, ২০১২ সালের আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে সঠিকভাবে আলাদা করা হয়নি। নতুন আইনে এই দুটিকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন আইনের মাধ্যমে মূলত অপরাধীদের আর্থিক জবাবদিহি এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাবে।
কর্মশালায় বক্তারা আশা করেন, এই আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশ গমনের প্রবণতা কমবে। মানব পাচারকারী চক্রের মূলোৎপাটন করা সম্ভব হবে।