সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দার পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। নিজের পদত্যাগ করার ইচ্ছা পোষণ করে প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে ৫ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর থেকে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হাইকোর্ট বিভাগের ১২ বিচারপতির মধ্যে বিচারপতি নাইমা হায়দারও ছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান ২ ফেব্রুয়ারি ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো চিঠিতে নিজের পদত্যাগ করার ইচ্ছা পোষণ করে দেশের প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট থেকে দুই বিচারপতির পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে এর মধ্যে পাঠানো হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিচারপতি নাইমা হায়দারের বিষয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছিল। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। দুই বিচারপতি যেদিন পদত্যাগপত্র দিয়েছেন, সেদিনই তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।’
এর আগে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির বরাবর পদত্যাগপত্র দেন হাইকোর্ট বিভাগের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মামনুন রহমান। দেশের বাইরে থেকে এই বিচারপতির পদত্যাগপত্রটি ই-মেইলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। দুই দশকের বেশি সময় তিনি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
হাইকোর্ট বিভাগের তৃতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি নাইমা হায়দার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তিনি ১৯৮৯ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৯৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগ ও ২০০৪ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৯ সালের ৩০ জুন হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ২০১১ সালের ৬ জুন একই বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।