সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। আজ রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। আজ রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে

ঢাকায় আত্মীয়স্বজন না থাকলে অর্থ–স্বর্ণালংকার থানায়ও রাখা যেতে পারে: ডিএমপি

ঈদুল ফিতরে ঢাকা ছাড়ার আগে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল বাসায় অরক্ষিত অবস্থায় না রেখে আত্মীয়স্বজনের কাছে রেখে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি বলেন, ঢাকায় কারও আত্মীয়স্বজন না থাকলে প্রয়োজনে এসব মূল্যবান জিনিস থানায়ও রাখা যেতে পারে।

আজ রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা এবং ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে মো. সরওয়ার এ কথা বলেন।

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, ঈদ সামনে রেখে নগরবাসীর যাত্রা নির্বিঘ্ন করাসহ ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নগরবাসীর উদ্দেশে মো. সরওয়ার বলেন, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার বা গুরুত্বপূর্ণ দলিল অরক্ষিত অবস্থায় রেখে যাবেন না। সম্ভব হলে আত্মীয়স্বজনের বাসায় রেখে যান।

কারও যদি ঢাকায় আত্মীয়স্বজন না থাকে, সে ক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার। তিনি বলেন, প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে থানায়ও রেখে যেতে পারেন।

নগরবাসীকে বাসা ছাড়ার আগে দরজা–জানালা ঠিকমতো বন্ধ আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বলেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ পরীক্ষা করে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এ ছাড়া বাসাবাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও পুরোনো ক্যামেরা সচল রাখার আহ্বান জানান মো. সরওয়ার। রাতের বেলায় বাসার আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার কথাও বলেন তিনি।

ঈদের সময় ফাঁকা ঢাকায় অপরাধ প্রতিরোধে টহল কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার। তিনি বলেন, রাজধানীতে প্রতিদিন তিন শতাধিক মোটরসাইকেল ও গাড়ি দিয়ে মোবাইল প্যাট্রোল পরিচালনা করা হচ্ছে। রাতের বেলায় ৭০টির বেশি চেকপোস্ট বসানো রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ফুট প্যাট্রোল চলছে। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি থাকবে।

মো. সরওয়ার বলেন, রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল, একটি লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশন ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে ইউনিফর্ম পরা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।

রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলে জানান ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার। তিনি বলেন, ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও পকেটমারদের তৎপরতা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চলছে।

মো. সরওয়ার বলেন, ঈদের দিন থেকে কয়েক দিন ফাঁকা ঢাকায় রেসিং বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ঠেকাতে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, বনানী থেকে আবদুল্লাহপুর ও গুলশান এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।