ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আসন পরিবর্তন নিয়ে তর্কাতর্কি, ছাত্রলীগের এক কর্মীর ধাক্কায় মাথা ফাটল আরেকজনের

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল
ছবি: সংগৃহীত

আসন পরিবর্তন করা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে মারামারিতে জড়িয়েছেন ছাত্রলীগের দুই কর্মী। মারামারির একপর্যায়ে তাঁদের একজনের ধাক্কায় আরেকজনের মাথা ফেটেছে ও দাঁত ভেঙেছে। এই দুজন সহপাঠী।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে জহুরুল হক হলের টিনশেড ভবনের ২০ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ছাত্রলীগ কর্মী হলেন দেলোয়ার হোসাইন। তাঁকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বায়েজিদ ইসলামের বিরুদ্ধে। তাঁরা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র। এই দুই সহপাঠী ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়।

আহত দেলোয়ারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁর মাথায় কয়েকটি সেলাই পড়েছে। পরে তাঁকে দাঁতের চিকিৎসার জন্য মিরপুর ডেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ভর্তি কার্যক্রম শেষে কিছুদিন পর নবীন শিক্ষার্থীরা হলে আসছেন। এ অবস্থায় বিভিন্ন কক্ষের আসন পরিবর্তন ও বিনিময় করছে হল শাখা ছাত্রলীগের চার পক্ষ (সব হলই ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে)। আসন পরিবর্তন করা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে গতকাল রাতে টিনশেড ভবনের ২০ নম্বর কক্ষে মারামারি বেধে যায়।

জহুরুল হক হলের টিনশেডের ২০ নম্বর কক্ষে থাকেন সমাজবিজ্ঞানের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আমান উল্লাহ। গতকালের মারামারির ঘটনার সময় তিনি কক্ষেই ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, বায়েজিদ গতকালই গ্রামের বাড়ি থেকে আসেন। একপর্যায়ে দেলোয়ার বায়েজিদকে বলেন, ‘তোকে এতগুলা ফোন দিলাম তোর সিটে জুনিয়র ওঠাব বলে। তুই ফোন রিসিভ করিসনি কেন?’ জবাবে বায়েজিদ বলেন, ‘তুই আমাকে এতগুলো কল দিয়েছিস কেন? জানিস না যে আমার নানা মারা গেছেন। তুই আমার সিটে জুনিয়র তোলার কে? এটা করতে পারে সিনিয়র ভাইয়েরা।’ এরপর দুজন কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে দেলোয়ার বায়েজিদকে ঘুষি দেন। এ সময় তাঁদের নিবৃত্ত করতে যান বিজয় একাত্তর হল থেকে আসা তাঁদের সহপাঠী মিনহাজুল ইসলাম।

মারামারির একপর্যায়ে দেলোয়ার চেয়ার তুলে বায়েজিদকে মারতে যান। বায়েজিদ তাঁকে ধাক্কা দেন। এতে দেয়ালে ধাক্কা লেগে দেলোয়ারের মাথা ফেটে যায়। নিচে পড়ে গিয়ে সামনের একটি দাঁতও ভেঙে যায়।

মিনহাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বায়েজিদের কাছে যাই একটা কাজে। হঠাৎ দেলোয়ার ও বায়েজিদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। দেলোয়ার বায়েজিদকে ঘুষি দেয়। নিবৃত্ত করতে গেলে আমাকেও মারার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে চেয়ার দিয়ে মারতে এলে দেলোয়ার ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান। এতে তাঁর দাঁত ভেঙে যায় ও মাথা ফেটে যায়।’

তবে বায়েজিদ ইসলামের ভাষ্য, ‘সে (দেলোয়ার) গায়ে হাত তোলা শুরু করলে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে দেলোয়ার একটা চেয়ার নিয়ে আমাকে মারার জন্য তেড়ে আসে।

পরে ধাক্কাধাক্কিতে আমি ও দেলোয়ার দুজনই পড়ে যাই। কীভাবে যেন তার মাথা ফেটে যায়। কেউ তাকে মারেনি, ধাক্কাধাক্কি করতে গিয়েই সে আঘাত পেয়েছে।’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেলোয়ারের সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
খবরটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে আবাসিক শিক্ষককে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দেলোয়ারের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে উল্লেখ করে জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ আবদুর রহিম বলেন, এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।