
রাজধানীর কালশীর সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনের সামনের স্ট্যান্ডে লেখা ‘বন্ধ’, নিচে সাদা কাগজে লেখা ‘অকটেন নাই’। এই পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিগত গাড়ির দুটি সারির মধ্যে একটির সামনে বসে ছিলেন জিয়ারুল ইসলাম। চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তিনি তেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্লান্ত হয়ে গেছেন তিনি।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনের সামনে কথা হয় জিয়ারুল ইসলামের সঙ্গে।
ঈদের পর আজ থেকে কাজ শুরু করেছেন জানিয়ে জিয়ারুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুন্দরবন কুরিয়ারের একজন স্যারের ডিউটি করি। পাম্প থেকে তেল নিতে এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখি, পাম্পে তেল নেই, বন্ধ। এখন অন্য কোথাও যাওয়ারও উপায় নেই। এখানে তেল দিলেই নিতে হবে।’
পাম্প বন্ধ থাকায় তখন কোনো ব্যবস্থাপক বা ইনচার্জ উপস্থিত ছিলেন না। একজন বিক্রয়কর্মী বলেন, গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টায় শেষ তেল শেষ হয়ে গেছে। গাড়ি তেল নিতে ডিপোতে গেছে। গাড়ি আসতে বেলা একটা–দুইটা বাজতে পারে।
পাম্প বন্ধ থাকার পরও সেখান থেকে তেল কেনার অপেক্ষায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই পাম্পের সামনে থেকে গাড়ির সারি প্রায় ইসিবি চত্বর পর্যন্ত বিস্তৃত দেখা গেছে। এ সময় সারিতে ৯৩টি ব্যক্তিগত গাড়ি ও ৩৭টি মোটরসাইকেল ছিল। মোটরসাইকেলের চালকদের ছোট ছোট দলে ছায়াযুক্ত স্থানে বসে গল্প-আড্ডা করতে দেখা গেছে।
গাড়ির সারি বিজয় সরণি থেকে মহাখালী
ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন বিজয় সরণি সংলগ্ন এলেনবাড়িতে। এই পাম্প থেকে তেল কেনার অপেক্ষায় থাকা গাড়ির সারি মহাখালী সংলগ্ন শাহীনবাগ ছাড়িয়ে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাছাকাছি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আর মোটরসাইকেলের সারি ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উত্তর পাশের সীমানা পর্যন্ত।
এই পাম্পে তেল কেনার অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিগত গাড়ির চালক ইসমাইল হোসেন বলেন, সকাল পৌনে আটটা থেকে তিনি সারিতে আছেন। শুরু করেছেন জাহাঙ্গীরগেট মোড় থেকে। তাঁর ধারণা, ওই সময় তাঁর সামনে অন্তত কয়েক শ গাড়ি ছিল।
বেলা সোয়া ১১টার দিকে কথা হয় ইসমাইলের সঙ্গে। ততক্ষণে তিনি তিন ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাইকে বলা হয়েছিল পাম্প বন্ধ করা হবে। তেল প্রায় শেষ। বিক্রি বন্ধ করে দিলেও লাইন ছাইড়া কোথাও যাওয়া যাইব না। গেলেই আবার ৩০০ জনের পেছনে আইসা দাঁড়াইতে হইব। তহন আবার সেই আগের কষ্ট।’
ট্রাস্ট পাম্পের সামনে পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। সেনাবাহিনীর দুটি টহল গাড়ি পাম্পের পাশে অবস্থান করছিল। কর্মীরাও যানবাহনের শৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর ছিলেন।
‘বন্ধুগণ সময় নষ্ট করবেন না’
বেলা ১১টার একটু আগে তেজগাঁও শিল্প এলাকার সাউদার্ন অটোমোবাইলস লিমিটেড ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, একজন কর্মী তেল কিনতে যাওয়া মানুষের উদ্দেশে হ্যান্ডমাইকে বিভিন্ন বার্তা ঘোষণা করছেন। ওই ব্যক্তি মাইকে বলছিলেন, ‘বন্ধুগণ সময় নষ্ট করবেন না। পাম্পে অকটেন নেই। তাই পাম্পে এসে ভিড় করে সময় নষ্ট করবেন না। তেল আসতে আসতে দেড়টা-দুইটা বাজতে পারে। তাই ভিড় না করে চলে যান।’
পরে কথা হয় আবদুর রহিম নামের ওই কর্মীর সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বিকেল পাঁচটার পর থেকে তেল (অকটেন) না থাকায় বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ডিজেল আছে। এ ছাড়া এলপিজি গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে।
অকটেন না থাকায় এই পাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা যায়নি। ডিজেল বা এলপিজি নিতে যাওয়া যানবাহনের সারি তেমন দীর্ঘ ছিল না।