বরিশাল হোটেলের আগুন

তদন্তে সহযোগিতা করছেন না স্থানীয় লোকজন: ফায়ার সার্ভিস

বরিশাল হোটেলের কাঠের পাটাতনে ঘুমোতেন হোটেলশ্রমিকেরা। গতকাল এই পাটাতনেই আগুনে পুড়ে মারা যান। তাঁদের কারও একজনের পোড়া লুঙ্গির অংশ ঝুলছে
ছবি: আসাদুজ্জামান

রাজধানীর চকবাজারে দেবীদাস ঘাট লেনে বরিশাল হোটেলের আগুনের ঘটনা তদন্তে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দল। তদন্তে তারা স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা পাচ্ছে না, মালিকপক্ষের কারও সঙ্গেও কথা বলতে পারেনি বলে জানায়।

আজ বুধবার ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত দলের প্রধান উপসহকারী পরিচালক বজলুর রশিদ গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা বলেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন বজলুর রশিদ

বজলুর রশিদ বলেন, বরিশাল হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করেছে। দুর্ঘটনার দিনই প্রাথমিক তথ্য নিয়ে কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করে ফায়ার সার্ভিস। এখন ঘটনাস্থলে থেকে সঠিক কারণ অনুসন্ধান ও নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ঘটনার তিন দিন হলেও মালিকপক্ষের কারও সঙ্গে কথা বলা যায়নি। এমন অবস্থায় সঠিক কারণ বের করতে তদন্ত দলকে বেগ পেতে হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজনও তদন্ত দলের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন না বলেও উল্লেখ করেন বজলুর রশিদ। তিনি বলেন, এই এলাকায় কিছুদিন আগে আরও একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সেখানেও চার থেকে পাঁচজন মারা গেছেন। স্থানীয় লোকজন এভাবেই ব্যবসা করতে চান, কিন্তু তাঁদের নিজেদের নিরাপত্তা আগে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ঝুঁকিপূর্ণ কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ফায়ার সার্ভিস ছাড়পত্র দেয় না উল্লেখ করে বজলুর রশিদ বলেন, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ব্যবসা করে কেউ দুর্ঘটনার শিকার হলে তার দায়ভার ফায়ার সার্ভিস নেবে না।

গত সোমবার রাজধানীর চকবাজারের দেবীদাস ঘাট লেনে একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যু হয়। মৃত ব্যক্তিরা সবাই ভবনের নিচতলার বরিশাল হোটেলের কর্মচারী। আগুনের সময় তাঁরা হোটেলটির ওপরের দিকে কাঠের পাটাতন দিয়ে তৈরি বিশ্রামাগারে ছিলেন। এ ঘটনায় হোটেলের মালিক ফখরুদ্দিন, হোটেলের ব্যবস্থাপক মো. রানাসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন নিহত হোটেলকর্মী রুবেলের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী। ইতিমধ্যে হোটেলের মালিক ফখরুদ্দিন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলেন, চারতলা ভবনের নিচতলার এক পাশে ছিল হোটেলটি। সেখান থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। ভবনের অন্য তলাগুলোতে ছিল বিভিন্ন কলকারখানা। প্রথম তলায় প্লাস্টিক তৈরির উপাদান প্রস্তুত করা হতো। দ্বিতীয় তলায় প্লাস্টিকের পলিথিন তৈরি হতো। তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় প্লাস্টিকের খেলনাসামগ্রী তৈরির কারখানা ছিল।