মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শে তাসনিম জারা। আজ রোববার দুপুরে
মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শে তাসনিম জারা। আজ রোববার দুপুরে

মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার পরিদর্শন শেষে তাসনিম জারা বললেন, মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কীভাবে আস্থা রাখবে

রাজধানীর মিরপুরে গুঁড়িয়ে দেওয়া রাড্ডা সেন্টার পরিদর্শন শেষে চিকিৎসক ও রাজনীতিক তাসনিম জারা বলেছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চলার পরও পুলিশ কেন তা ঠেকাতে পারেনি? এমন পরিস্থিতি থাকলে মানুষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কীভাবে আস্থা রাখবে?

আজ রোববার মিরপুর–১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দেখতে গিয়ে এ কথা বলেন তাসনিম জারা।

ঘটনাস্থলে পুলিশও ছিল। ডিএমপি কমিশনারও বলেছেন, অল্প সময়ের মধ্যে নয়, কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লোকজন পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে। এরপরও কেন এমন ভাঙচুর হলো, সেটি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তাসনিম জারা বলেন, পুরো ঘটনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।

তাসনিম জারা বলেন, এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশজুড়ে জমি, বাড়ি ও দোকান দখলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আছে। জয়পুরহাটে একজনকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু বহিষ্কার করলেই হবে না; ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় নেতারা কেন দখলের সুযোগ পাচ্ছেন, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে।

রাড্ডা সেন্টারটি প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। শুধু টিকাদান নয়, এখানে মা ও শিশুদের নানা সেবা দেওয়া হতো। এখন ধ্বংসযজ্ঞের কারণে এসব সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাসনিম জারা পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন। চিকিৎসাসেবার বর্তমান অবস্থার খোঁজখবর নেন।

জারা সাংবাদিকদের বলেন, টিকাদানের রেজিস্টার খাতা ও দুটি ট্যাব নেই। এ কারণে কোন শিশুর কখন টিকা দেওয়ার কথা, সে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। আগে রেজিস্টার দেখে অভিভাবকদের ফোন করে টিকার সময় জানানো হতো। এখন কর্মীরা নিজেদের ফোন ব্যবহার করে যতটা সম্ভব যোগাযোগ করছেন। রোদে বাইরে বসে শিশুদের টিকা নিতে হচ্ছে। ভিড়ের কারণে কেউ কেউ ফিরে যাচ্ছেন।

কোনো শিশুর টিকার কার্ড হারিয়ে গেলে সমস্যাটি আরও বড় হবে উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, নিয়মিত টিকা থেকে অনেক শিশু বঞ্চিত হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে শিশুদের সর্বশেষ ও পরবর্তী টিকার তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। রেজিস্টার পুনরায় তৈরি করতে হবে। কোনো শিশু যেন টিকার আওতার বাইরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাসনিম জারা বলেন, কর্মীরা ওয়াশরুম ব্যবহার করতে পারছেন না। খাবার খাওয়ারও ব্যবস্থা নেই। তাই ব্যবহারযোগ্য কক্ষগুলো দ্রুত খুলে দিয়ে সেবাদানের পরিবেশ তৈরি করা দরকার।