হিজড়া সম্প্রদায়ের ৪০ জন পেলেন ঘর

ঘর পেয়ে খুশি হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা। আজ দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া সুতিরপাড় গ্রামে
ছবি: প্রথম আলো

শেরপুরের পল্লিতে নবনির্মিত গুচ্ছগ্রামে হিজড়া জনগোষ্ঠীর ৪০ সদস্য সরকারি ঘর পেয়েছেন। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব আনুষ্ঠানিকভাবে হিজড়া সদস্যদের কাছে এসব ঘর হস্তান্তর করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহায়তায় শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া সুতিরপাড় গ্রামের দুই একর খাসজমিতে ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ নামের এই গুচ্ছগ্রাম তৈরি হয়েছে। সেখানে ৪০ জন হিজড়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জমিসহ ঘর। সঙ্গে রয়েছে রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার।

ঘর হস্তান্তর উপলক্ষে আন্ধারিয়া সুতিরপাড় গ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনার কলি মাহবুব বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তাঁদের বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বাসস্থানের পাশাপাশি হিজড়াদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজও চলছে। ইতিমধ্যে অনেককে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সামনে আরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুই একর জমিতে এই আবাসন প্রকল্প নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬৯ লাখ ৪ হাজার টাকা। সেখানে আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য রয়েছে ৪০ শতাংশ জমির ওপর একটি পুকুর এবং শাকসবজি, ফসল আবাদের জন্য খোলা জায়গা। আত্মকর্ম প্রশিক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে একটি মাল্টিপারপাস কক্ষ। গুচ্ছগ্রামের সঙ্গেই রয়েছে মরাসুতি নামে ৮ একরের একটি সরকারি খাস বিল। সেটিও হিজড়াদের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে।

ঘর পাওয়ার পর জেলা হিজড়া কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নিশি সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত দিন আমাদের বাসস্থানের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু সরকারের সহায়তায় “স্বপ্নের ঠিকানা” গুচ্ছগ্রামের মাধ্যমে আমাদের বাসস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এখন আমাদের কর্মসংস্থান দরকার। আমরা ভিক্ষাবৃত্তি করতে চাই না। চাঁদাবাজি করে জীবন চালাতে চাই না। আমরা মানুষের মতো বাঁচতে চাই।’

অনুষ্ঠানে জেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার পক্ষ থেকে ৪০ জন হিজড়ার প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী ও তৈজসপত্র দেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসক গুচ্ছগ্রামের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত ও গুচ্ছগ্রাম প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এ টি এম জিয়াউল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মুক্তাদিরুল আহমেদ, ফরিদা ইয়াসমিন, কামারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল বারী, জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান নাসরিন রহমান, জেলা মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আইরীন পারভীন, জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্যসচিব হাকিম বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।