খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন
খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন

টিটন হত্যাকাণ্ডে ভাইয়ের মামলা, এজাহারে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম

শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের এক দিন পর থানায় মামলা হয়েছে। এতে আসামির তালিকা ফাঁকা রাখা হলেও সন্দেহভাজন হিসেবে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ কয়েকজনের নাম এসেছে।

নাঈম আহমেদ টিটনের ভাই সাঈদ আক্তার রিপন আজ বুধবার ঢাকার নিউমার্কেট থানায় মামলাটি করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মো. নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চলমান।

বাদী সাঈদ আক্তার সুনির্দিষ্ট করে কাউকে আসামি না করলেও এজাহারে সন্দেহভাজন হিসেবে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল (পিচ্চি হেলাল), বাদল ওরফে কিলার বাদল, শাহজাহান, রনি ওরফে ড্যাগারি রনির নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁদের সঙ্গে বছিলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে টিটনের বিরোধ চলছিল বলে বাদী জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে আটটার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে টিটনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে ছিল তাঁর নাম। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর ২০২৪ সালে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে অন্তঃকোন্দল টিটন হত্যাকাণ্ডের কারণ বলে সন্দেহ করছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। মামলার এজাহারের বর্ণনাও সেদিক ইঙ্গিত করে।

এজাহারে সাঈদ আক্তার বলেন, ২৬ এপ্রিল তাঁকে ফোন দিয়ে টিটন বলেছিলেন, ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল ওরফে কাইলা বাদল, শাহজাহান, রনি ওরফে ড্যাগারি রনিদের সঙ্গে বছিলা গরুর হাটের ইজারা নিয়ে ঝামেলা চলছে। পরদিন টিটন বলেন, ‘আমাকে ডাকছে উভয়ের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করার জন্য।’

ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু বেচা–কেনার জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসায়। এগুলো ইজারার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবার বছিলাসহ ১২টি হাট ইজারা দিতে দর প্রস্তাব আহ্বান করে। মোহাম্মদপুরের বছিলায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকা ইজারার ভিত্তি দর ধরে দরপত্র আহ্বান করলেও কোনো দর প্রস্তাব জমা পড়েনি। ফলে সেখানে আবার দরপত্র আহ্বান করা হবে।

পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন। ধীরে ধীরে অপরাধজগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বও দেন। অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা।

২০০৪ সালে টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট জামিনে মুক্তির পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে।

টিটন হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্লা শাহাদাত গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, রাত পৌনে আটটার দিকে মোটরসাইকেলে করে এসে দুজন দুর্বৃত্ত তাঁকে (টিটন) লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। খুব কাছ থেকে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচ থেকে ছয়টি গুলি করা হয়। এরপর দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারী ব্যক্তিরা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় টিটনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।

খুনিদের পুলিশ চিহ্নিত করতে পারেনি। পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা পাওয়া যায়নি। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।