
সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সাত সদস্য কোনো যাত্রীবাহী বাসে ওঠেন। তাঁদের একজন বাসে বমি করে দেন। তখন তাঁদেরই তিন সদস্য নিজেদের মধ্যে হইচই করে জটলা পাকিয়ে ফেলেন। সুযোগ বুঝে চক্রের দুই সদস্য ভিড়ের মধ্যে থাকা মানুষের মুঠোফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বাইরে থাকা অপর সদস্যের হাতে দিয়ে পালিয়ে যান।
পুলিশের হাতে ধরা পড়া সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরপুর মডেল থানার পুলিশ ৬০ ফিট সড়কের মণিপুর এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন এফ এম সাজ্জাদ হোসেন ওরফে সাগর (৩৮), মো. ওয়াসিম আকরাম (৩৫) ও মো.জাহিদুল ইসলাম (৩০)। পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত তিনটি ছুরি জব্দ করেছে।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাজ্জাদ এই সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের প্রধান। এই দলে সাতজন সদস্য রয়েছে। তারা তিন ভাগে ভাগ হয়ে কাজ করে। প্রথমে তারা কোনো বাসে ওঠে। এদের একজন নিশানা করা স্থানে বমি করে দেয়। তখন তাদের তিন সদস্য সেখানে হইচই শুরু করে জটলা তৈরি করে। সুযোগ বুঝে দুই সদস্য ভিড়ের মধ্যে থাকা মানুষের মুঠোফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বাইরে অপেক্ষমাণ অপর সদস্যের হাতে তুলে দেয়। এরপর সবাই সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায়।’
ওসি মহসীন বলেন, ‘কাজের সুবিধায় তাদের নিজস্ব সাংকেতিক ভাষা আছে। তারা নিশানাকে ডাকে মামা, পুলিশকে ডাকে লাতা, এ ছাড়া দলনেতাকে মিস্ত্রি, সহযোগীকে তালবাজ কিংবা ঠেকো, গাড়িকে চাক্কা বলে। তারা নিজেদের গ্রুপের নাম দিয়েছে সেভেন স্টার।’
ওসি জানান, দলের সাত সদস্য পৃথক সাত জেলার বাসিন্দা। তাঁরা তিন বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করলেও কেউই কারও বাসা চেনেন না। ছিনতাই হওয়া টাকা তাঁরা তিন ভাগে ভাগ করেন। এক ভাগ দলনেতা, এক ভাগ তাদের মামলা মোকাবিলার জন্য রাখেন এবং আরেক ভাগ বাকি সদস্যরা ভাগাভাগি করে নেন। তাঁদের কেউ একজন গ্রেপ্তার হলে বাকি সদস্যরা জামিন করান। গ্রেপ্তার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছয়টি ও ওয়াসিমের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে।