
টেলিগ্রামে ‘সাবরিনা ইসলাম’ নামের একটি আইডি থেকে প্রস্তাবটি এসেছিল। ঘরে বসে ‘অ্যাটোমিক মার্কেট’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কাজ করলেই মিলবে নিশ্চিত আয়। সেই হাতছানিতে সাড়া দেওয়াই কাল হলো এক ব্যক্তির। সহজ আয়ের প্রলোভনে পড়ে ধাপে ধাপে তিনি খুইয়েছেন ৩৯ লাখ ৫৬ হাজার ৪৬৯ টাকা।
অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত সোমবার রাতে রাজধানীর হাজারীবাগ ও নিউমার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩৩) ও মো. রাজিব খান (৩৩)।
যেভাবে পাতা হয় ফাঁদ
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১ জুলাই। মতিঝিল এলাকায় অবস্থানকালে ভুক্তভোগী ব্যক্তির সঙ্গে টেলিগ্রামে সাবরিনা ইসলাম নামের এক ভুয়া আইডির যোগাযোগ হয়। প্রলোভনে পড়ে ওই ব্যক্তি সেখানে একটি হিসাব (অ্যাকাউন্ট) খোলেন। শুরুতে বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রতারকেরা তাঁকে অল্প টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে আকর্ষণীয় কমিশন ও বোনাস দেয়। এতে প্ল্যাটফর্মটিকে বৈধ ও লাভজনক মনে করেন তিনি। এরপর বড় মুনাফার টোপ দিয়ে ভুক্তভোগীকে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে বাধ্য করা হয়। সরল বিশ্বাসে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মুঠোফোনে আর্থিক সেবার (এমএফএস) মাধ্যমে কয়েক দফায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা জমা দেন।
ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে যখন অনেক লাভ জমা হয়, তখনই বিপত্তি শুরু হয়। উপার্জিত অর্থ তুলতে গেলেই প্রতারকেরা একের পর এক বাধা সৃষ্টি করে। কখনো ‘সিকিউরিটি ফি’, কখনো ‘সার্ভিস চার্জ’ আবার কখনো ‘এনএফটি স্কোর’ বৃদ্ধির অজুহাতে দফায় দফায় আরও টাকা দাবি করা হয়। টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় তিনি সেসব দাবিও মেটান। একপর্যায়ে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে গা ঢাকা দেয় চক্রটি। পরে নিরুপায় হয়ে ওই ব্যক্তি গত সেপ্টেম্বরে মতিঝিল থানায় মামলা করেন।
সিআইডির অভিযান
মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পূর্ব ইউনিটের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রথমে হাজারীবাগের নতুন রাস্তা এলাকা থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টার দিকে নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার এলাকা থেকে রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় অপরাধকর্মে ব্যবহৃত মুঠোফোন ও সিম কার্ড জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সিআইডি কর্মকর্তাদের জানান, তাঁরা ভুয়া টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে চাকরি ও সহজে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। গ্রেপ্তার সাজ্জাদ আগে থেকেই এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অপরজন রাজিব বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব খোলা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সরবরাহের মাধ্যমে এ প্রতারণা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতেন।
আজ বৃহস্পতিবার সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে সিআইডির তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে অনলাইনে লোভনীয় আয়ের প্রস্তাব থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।