শরিফ ওসমান বিন হাদি ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ‘ফ্যাসিস্টদের’ দমনে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ শুরু করেছে সরকার
শরিফ ওসমান বিন হাদি ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ‘ফ্যাসিস্টদের’ দমনে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ শুরু করেছে সরকার

অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২

এক মাসে সারা দেশে গ্রেপ্তার ১৮ হাজার

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ফ্যাসিস্টদের দমনে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ এর আওতায় গত এক মাসে সারা দেশে ১৮ হাজার ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। এ সময় ২৮৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, এক হাজার ৮৪৪টি গুলি, ৫৭৭টি দেশীয় অস্ত্র, তিনটি গ্রেনেড, ৯৫টি ককটেল-বোমা, প্রায় ২০ কেজি গান পাউডার ও ২৭ কেজি রাসায়নিক পাউডারসহ বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ‘ফ্যাসিস্টদের’ দমনে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ শুরু করে সরকার।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে গতকাল সোমবার পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ১৮ হাজার ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ২৮৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, এক হাজার ৮৪৪টি গুলি, ৫৭৭টি দেশীয় অস্ত্র, তিনটি গ্রেনেড, ৯৫টি ককটেল-বোমা, প্রায় ২০ কেজি গান পাউডার ও ২৭ কেজি রাসায়নিক পাউডার, বিস্ফোরক, অস্ত্র-বোমা ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ২৭ হাজার ৬০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ৭ হাজার ১৯৪টি তল্লাশিচৌকি পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭২টি গাড়িতে তল্লাশি এবং ১৩ হাজার ৮২৬টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার যোগাযোগ করা হলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি-ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও যারা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, ঝটিকা মিছিল করছে, যারা ফ্যাসিস্টের সঙ্গে ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত, তাদের কেন্দ্র করেই সারা দেশে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ শুরু করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন আজ প্রথম আলোকে বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশে যৌথ বাহিনীর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ চলবে ।

গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইন শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছিলেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। এটিকে আরও জোরদার ও বেগবান করার জন্য এবং ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীদের দমনের উদ্দেশ্যে কোর কমিটি ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অবিলম্বে চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এর ১০ মাস আগে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু করা হয়েছিল । গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে গাজীপুরসহ সারা দেশে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে অপারেশন ডেভিল হান্ট পরিচালনা করা হয়।

গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেলের গাজীপুরের বাড়িতে হামলা হয় এবং সেখানে ১৫-১৬ জন শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হন। তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলেছিলেন, আহত শিক্ষার্থীরা শুক্রবার রাতে সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর বাড়িতে ডাকাতির খবর পেয়ে তা প্রতিহত করতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের মারধর করা হয়। ওই ঘটনার পর গাজীপুরে বিক্ষোভ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। তাঁদের বিক্ষোভের মুখে গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর সরকার অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরু করে।