
নিজের জমি না থাকায় পুলিশের চাকরি আটকে যাওয়া বরিশালের হিজলা উপজেলার আসপিয়া ইসলামকে জমি দিতে চান গাজীপুরের শ্রীপুরের মেজবাহ উদ্দিন। আজ শুক্রবার বেলা দুইটায় তিনি এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।
মেজবাহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসপিয়ার খবরটা শুনে মন খারাপ হয়ে গেছে আমার। তাঁর বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো মেয়েটাকে এত কষ্টের মধ্যে পড়তে হতো না। আসপিয়া ও তাঁর অভিভাবক চাইলে যেকোনো সময় আমি বিনা শর্তে জমি লিখে দিতে চাই। আমার যথেষ্ট জমি আছে। যতটুকু জমি হলে মেয়েটার চাকরি হবে, আসপিয়া ভালো থাকবে, ততটুকু জমি বিনা শর্তে লিখে দিতে চাই। আমি তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
মেজবাহ উদ্দিন শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকার কফিল উদ্দিন মেম্বারের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। মেজবাহ উদ্দিন বলেন, জমি লিখে দেওয়ার বিনিময়ে বিন্দুমাত্র তিনি প্রতিদান চান না। শুধু মানুষ হিসেবে আরেকটা মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। এক টুকরা জমি নেই বলে মেয়েটার চাকরি হবে না, এটা হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে আছে। আমি একজন পিতা। একজন অভিভাবক হিসেবে আসপিয়ার বিষয়টি আমাকে চরমভাবে নাড়া দিয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব আমি আসপিয়ার জটিলতা দূর করতে চাই। তাঁকে ভূমির মালিকানা দিতে চাই।’
পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষার সব ধাপ অতিক্রম করেও শেষ পর্যন্ত ভূমিহীন হওয়ায় আসপিয়ার চাকরি হচ্ছে না। আসপিয়া ইসলাম বরিশালের হিজলা উপজেলার খুন্না গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের মেয়ে। ছোট থেকেই গ্রামের এক ব্যক্তির দেওয়া জমিতে পরিবারসহ আশ্রিত তিনি। ছোট ভাই পোশাক কারখানার শ্রমিক। অল্প আয়ে কোনোমতে চলে তাঁদের সংসার। পারিবারিক দৈন্যদশার মধ্যেই তিনি ২০২০ সালে বরিশালের সরকারি হিজলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।