ছয় ধাপ মিলিয়ে ফল

জয়ের পাল্লায় কাছাকাছি আ.লীগ–বিএনপি

বগুড়া জেলায় মোট ইউনিয়ন ১০৯টি। মেয়াদ শেষ না হওয়ায় দুপচাঁচিয়ার তালোড়া এবং সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ি ইউপির নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা হয়নি।

ষষ্ঠ ধাপে বগুড়ার ৪ উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ১৫টিতেই শোচনীয়ভাবে হেরেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। দলীয় প্রতীক ও সমর্থন ছাড়াই ১১টিতে জিতেছে বিএনপি। একটি করে ইউপিতে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ ও জামায়াতের প্রার্থী। আর নির্দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন দুটি ইউপিতে। সাত ইউপিতে জামানত হারিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

৩ দফায় টানা ১৩ বছর আওয়ামী লীগের দখলে থাকা বগুড়া-১ আসনের সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলার ১৮টি ইউপির মধ্যে ১৩টিতেই নৌকার প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। দুই উপজেলায় নৌকার প্রার্থীরা জিতেছেন মাত্র পাঁচ ইউপিতে।

এদিকে প্রথম থেকে ষষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচন শেষে নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া জেলার ১০৬টি ইউপির ফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন ৪০ ইউপিতে। ১৫ ইউপিতে জিতেছেন দলটি বিদ্রোহী প্রার্থীরা। বিএনপির রাজনীতি করা প্রার্থীরা জিতেছেন ৩২টিতে। ৬টিতে জিতেছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। আর বাকি ১৩ ইউপিতে জিতেছেন নির্দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন ১৫ ইউপিতে।

সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে তৃণমূল পর্যায়ের কোনো কোনো নেতা ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।
রেজাউল করিম, আহ্বায়ক, বগুড়া জেলা বিএনপি

বগুড়া জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলী শাহ্ বলেন, বগুড়া জেলায় ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ১০৯। এর মধ্যে মেয়াদ শেষ না হওয়ায় দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া এবং সারিয়াকান্দির চালুয়াবাড়ি ইউপির নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা হয়নি। অন্যদিকে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে গাবতলীর সুখানপুকুরে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ ধাপে সোনাতলায় সাত ইউপিতে নির্বাচন হয়। এর মধ্যে বালুয়া ছাড়া সব ইউপিতেই আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে। নৌকার প্রার্থীদের মধ্যে জামানত হারিয়েছেন পাকুল্যা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জুলফিকার রহমান এবং দিগদাইড় ইউনিয়নে আলী তৈয়ব শামীম।

সারিয়াকান্দি উপজেলার ১১টি ইউপির মধ্যে নৌকার প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন কামালপুর, চন্দনবাইশা, নারচি ও ফুলবাড়ি ইউনিয়নে। সদরে জিতেছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। বাকি ছয়টি ইউপিতে জিতেছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা।

এদিকে বগুড়া সদরের ফাঁপোড় ও রাজাপুর ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী। এই দুই ইউপিতে জামানত হারিয়েছেন নৌকার প্রার্থীরা। গাবতলী উপজেলার দুই ইউপিতেই বিজয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থীরা।

সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাদুজ্জামান লিটন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জনপ্রিয় নেতাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা তৈরি কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু একটি ইউপি বাদে অন্য সব ইউপিতে সেই তালিকার বাইরে অজনপ্রিয় ব্যক্তিদের নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হয়। ফলে একটি বাদে অন্য ছয় ইউপিতে নৌকার প্রার্থীরা হেরেছেন।

বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বলেন, দলীয় সরকারের অধীন কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার জন্য বিএনপি নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে দলের তৃণমূল পর্যায়ের কোনো কোনো নেতা ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। যেহেতু বিএনপি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, সে কারণে কে কতটা ইউপিতে জয়লাভ করলেন, তা নিয়ে দলের কোনো আগ্রহ নেই।

দিনাজপুর: ৬টি ধাপ মিলিয়ে দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত ৯৪টি ইউপির মধ্যে ২৭টিতে জয় পেয়েছেন বিএনপির রাজনীতি করা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা—২৯ শতাংশ। সঠিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারলে কিংবা সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে না পড়লে দলটির প্রার্থীরা আরও এগিয়ে থাকতেন বলে মনে করেন জেলা পর্যায়ের নেতারা।

গত সোমবার ষষ্ঠ ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জেলার ১৩টি উপজেলায় ১০৩ ইউনিয়নের মধ্যে ৯৪টিতে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। সদর, পার্বতীপুর ও বিরল উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে নির্বাচন বাকি আছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান প্রামাণিক।

দিনাজপুরে দ্বিতীয় ধাপে বোচাগঞ্জ ও হাকিমপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ২টিতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এ ছাড়া তৃতীয় ধাপে বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও ফুলবাড়ি উপজেলার ২৩টির মধ্যে ৮টিতে, চতুর্থ ধাপে খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলার ১৮টির মধ্যে ৮, পঞ্চম ধাপে পার্বতীপুর, বীরগঞ্জ ও কাহারোলের ২১টির মধ্যে ৪ এবং সর্বশেষ ষষ্ঠ ধাপে সদর, বীরগঞ্জ, বিরল ও ঘোড়াঘাটের ২১টির মধ্যে ৫টিতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।