
নেত্রকোনার বারহাট্টায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রকল্প পরিচালক নজিবুর রহমান। আজ বুধবার সন্ধ্যায় তিনি পরিদর্শনে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে গণপূর্ত বিভাগ ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম কামরুজ্জামান, জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসিনুর রহমান, বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মাজহারুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ঘটনা তদন্তে গতকাল মঙ্গলবার ইউএনও এস এম মাজহারুল ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। তাঁদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জেলা গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী মো. ইফতেকার আলম, স্থানীয় সরকার বিভাগের বারহাট্টা উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মো. মুজিবুর রহমান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, জেলা গণপূর্ত বিভাগের বাস্তবায়নে বারহাট্টায় উপজেলা ভূমি কার্যালয় এলাকায় মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ চলছে। তিন তলাবিশিষ্ট ওই মসজিদের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৪২ লাখ ৯২ হাজার ৬২৮ টাকা। ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল স্টার লাইন সার্ভিস লিমিটেড অ্যান্ড নাঈমা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণকাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মেয়াদকাল ছিল ১৫ মাস। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হলেও কাজ এখনো বাকি প্রায় ৩৫ শতাংশ। গত রোববার বিকেলে মসজিদের তৃতীয় তলার একটি অংশের পিলার ও বিম হঠাৎ ধসে পড়ে। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন তড়িঘড়ি করে তা সরিয়ে নেন। তখন জেলা গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসিনুর রহমান বলেছিলেন, কাজ ভালো হয়েছে। পিলার ও বিম ধসে পড়েনি, নির্মাণকাজের ত্রুটি থাকায় নিজেরা উদ্যোগী হয়ে ভেঙে ফেলেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে নানা ধরনের অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। ইট, বালু, পাথর, রডসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার প্রথম আলোয় ‘বারহাট্টায় মডেল মসজিদ ভবনের একটি অংশে ধস, নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান ইউএনও এস এম মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। এ ছাড়া প্রকল্প পরিচালক সরেজমিনে এসেছেন। কিছু বিষয় আমরা নির্ধারণ করেছি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে তা বলছি না।’