
ঢাকার সুবজবাগ এলাকায় গত শুক্রবার হওয়া একটি হত্যাকাণ্ডের আসামি আলমগীর হোসেন (৩৩) গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় পালিয়ে যান। সেখান থেকে মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের টাইগারপাস বোনের বাসায় আসেন তিনি। এ সময় ভগ্নিপতি আশরাফুল ইসলাম জানতে পারেন, শ্যালক খুনের মামলার আসামি। এরপর বেড়ানোর কথা বলে শ্যালককে তুলে দেন খুলশী থানার পুলিশের হাতে। বুধবার খুলশী থানা–পুলিশ সুবজবাগ থানা–পুলিশের হাতে তুলে দেয় খুনের মামলার আসামি আলমগীরকে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, থানায় এক লোক একজনকে নিয়ে আসেন। দাবি করেন, ওই লোক খুনের মামলার আসামি। তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত জানার পর সুবজবাগ থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আসামিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ভগ্নিপতি হয়ে আপন শ্যালককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ায় আশরাফুলকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ওসি সন্তোষ চাকমা। তিনি বলেছেন, সমাজের অন্যরা যাতে আশরাফুলকে দেখে উৎসাহিত হন, সে জন্য তাঁকে পুরস্কৃত করা হবে।
এ বিষয়ে শ্যালককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া আশরাফুল ইসলাম প্রথম আলাকে বলেন, অপরাধীর পরিচয় অপরাধী। আত্মীয় হলেও তাঁকে আশ্রয় দিইনি।
পেশায় একটি কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মী আশরাফুল ইসলাম। তাঁর স্ত্রী জান্নাত আরা চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। নগরের খুলশী টাইগারপাস এলাকার ভাড়া বাসায় থাকেন তাঁরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ঢাকার সুবজবাগ থানার মান্ডা খালের পাড়ে জহির মুন্সীকে (২৭) ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত জহিরের বাবা মোকলেস মুন্সী বাদী হয়ে আলমগীর ও নাজমুল নামের আরেক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। মোকলেস মুন্সীর বাসায় ভাড়া থাকতেন আলমগীর।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আলমগীরের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতেন তাঁর শ্যালক নাজমুল। কয়েক দিন আগে মোকলেস মুন্সীর কাছ থেকে সাত হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন নাজমুল। ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মোকলেসের ছেলে জহিরকে খুন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে জহিরকে মান্ডা খালের পাড়ে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়। এ সময় স্থানীয় ব্যক্তিরা নাজমুলকে ধরে ফেললেও আলমগীর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।