ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতার ঘটনায় হেফাজতের আলোচিত দুই নেতা কেন্দ্রীয় কমিটিতে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান (বাঁয়ে) ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোবারক উল্লাহ (ডানে)
ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহিংসতার ঘটনায় আলোচিত দুই নেতা জেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোবারক উল্লাহ কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। আজ সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলন করে কেন্দ্রীয় হেফাজতের ৩৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

৩৩ সদস্যের কমিটিতে মাওলানা সাজিদুর রহমান যুগ্ম মহাসচিব ও মুফতি মোবারক উল্লাহ প্রথম সদস্য পদে স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে সাজিদুর রহমান হেফাজতের আগের কমিটিতে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ছিলেন।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত মার্চ মাসের তিন দিনের (২৬-২৮ মার্চ) সহিংসতার ঘটনায় জেলা হেফাজতের দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে জেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। ওই সহিংসতার ঘটনায় জেলায় ১৫ জন নিহত হন। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় ৫৬টি মামলা হয়েছে।

মুফতি মোবারক উল্লাহ জেলার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং মাওলানা সাজিদুর রহমান জেলার জামিয়া দারুল আরকাম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার পরিচালক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী গত ১ মে সন্ধ্যায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি এজাহার দায়ের করেন। সাংসদের পক্ষে তাঁর আইনজীবী ও শহর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবদুল জব্বার এজাহারটি সদর মডেল থানায় জমা দেন। এজাহারে এতে মাওলানা সাজিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুফতি মুবারকুল্লাহসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে বৈধ সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতা চালানোর অভিযোগ আনা হয়। এজাহারে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।

৩৩ সদস্যের কমিটিতে মাওলানা সাজিদুর রহমান যুগ্ম মহাসচিব ও মুফতি মোবারক উল্লাহ প্রথম সদস্য পদে স্থান পেয়েছেন।

সাংসদ মোকতাদির চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহিংসতার ঘটনার পর হেফাজতের এই নেতাদের নাম উল্লেখ করে সাংসদ মোকতাদির চৌধুরীই প্রথম কোনো এজাহার দায়ের করেন। কিন্তু মামলাটি এখনো নথিভুক্ত হয়নি। সাংসদ তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টের মাধ্যমে ২৪ মের মধ্যে মামলাটি নথিভুক্ত করতে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এরপর ২৬ মে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন ফেসবুকে পৃথক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে সাংসদের এজাহারটি ১ জুনের মধ্যে মামলা হিসেবে নথিভুক্তির জন্য আলটিমেটাম দেন।

গত ১ ও ২ মে সচেতন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী ও সর্বস্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর ব্যানারে জেলা ছাত্রলীগ হেফাজতের এ দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করে। এরপর সন্ত্রাসবিরোধী মঞ্চ, জেলা ছাত্রমৈত্রী ও যুবমৈত্রী ও জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শহরের বিভিন্ন স্থানে মাওলানা সাজিদুর রহমান ও মুফতি মোবারক উল্লাহর গ্রেপ্তারের দাবিতে পৃথক পৃথক মানববন্ধন-বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি মতামতের জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। আমরা এখনো সিআইডির মতামত পাইনি। অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে মতামত আসতে সাধারণত দু-তিন সপ্তাহ বা কমবেশি সময় লাগে বলে জানান তিনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সিআইডি বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।’