মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভায় সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এতে সভাস্থলে পৌঁছাতে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হচ্ছে। এ কারণে অনেকেই হেঁটে যাওয়ার ভোগান্তি এড়াতে দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেকেই সভায় যোগ না দিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
ফিরে যাওয়া অন্তত ৩০ জনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁরা জানান, বাংলাবাজার ঘাটে জনসভায় যোগ দিতে হলে প্রচণ্ড গরমে মানুষের ভিড় ঠেলে দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে হচ্ছে। তাই তাঁরা ফিরে যাচ্ছেন। তবে সরাসরি কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে না পারলেও জনসভাস্থল এলাকায় পৌঁছাতে পেরেই তাঁরা খুশি।
সকাল নয়টায় শরীয়তপুরের নাওডোবা গোলচত্বরে এসে পৌঁছায় খুলনার পাইগানা থানার কয়রা এলাকার ২০টি বাস। বাসগুলোতে প্রায় ৬০০ মানুষ এসেছেন বাংলাবাজার ঘাটে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায়।
বিশাল এই বহরের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা ইখতিয়ার উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পাইগাছা-কয়রা আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামানের সৌজন্যে আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মী ও স্থানীয় ৬০০ মানুষ এই সভায় এসেছি। এখানে বাস থেকে নেমে প্রায় সাত কিলোমিটার হাঁটতে হচ্ছে। সভাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর মানুষের ভিড় ঠেলে আমাদের মধ্যে অনেকে ভেতরে ঢুকতে পারেননি। তাই আমরা কিছু মানুষ ফিরে যাচ্ছি। তবে প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থল পর্যন্ত আসতে পারছি, তাতেই আমরা খুশি।’
কয়রা থেকে এ বহরে যোগ দেন রিকশাচালক সুমন ইসলাম। এখানে আসার কারণ জানতে চাইলে সুমন বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ায় খুব আনন্দ আমাগো। প্রধানমন্ত্রীরে ধন্যবাদ। এত কাইল ফেরি আর লঞ্চে ভিড় ঠেলে ঢাকায় গেছি। কোনো কোনো দিন ঘাটে এসে পদ্মা পার হতে না পেরে বাড়িও ফিরে গেছি। এখন আমাগো কষ্টের দিন গেছে। সেতুর উপর দিয়া যাইতে পারমু, এটা ভাবতেই ভালো লাগতাছে।’
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা–কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ছাড়াও সাধারণ মানুষ জনসভায় অংশ নিয়েছেন। এতে সভাস্থলে মানুষের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়েছে। তাই কিছুটা পথ হেঁটে যেতে হলেও তাঁরা জনসমুদ্র দেখে খুশি। প্রধানমন্ত্রীর সাফল্যের কারণেই এই জনসমুদ্র বলে দাবি করছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।