
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হতে না পেরে আজ সোমবারও এক রোগীকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। ভর্তির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছেন আরও বেশ কিছু রোগী।
করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হতে না পেরে ফিরে যাওয়া ওই রোগীর নাম টুটুল ইসলাম (৩০)। তিনি সদর উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের বাসিন্দা। সকালে প্রথমে তাঁকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে তাঁকে করোনা ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। কিন্তু ওয়ার্ডে শয্যা ফাঁকা না থাকায় তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। বিকেলে ওই রোগীর ভাই আক্তারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভাই টুটুল ইসলামকে পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের কর্মরত চিকিৎসক ও তথ্য কর্মকর্তা আহনাব শাহরিয়ার বলেন, গত শনিবার দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, করোনা ওয়ার্ডে ৩০ থেকে ৫০টি শয্যা বাড়ানো হবে। কথা ছিল গতকাল রোববার সকাল থেকে সেটি চালু হওয়ার। কিন্তু শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার মধ্যেই ৫০টি শয্যায় করোনা রোগী পূর্ণ হয়ে যায়। আজ সুস্থ হওয়ায় তিনজন রোগীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আবারও পূরণ হয়ে যায় শয্যা তিনটি। এখনো ১৫ জনের মতো করোনা রোগী অপেক্ষমাণ। করোনা ওয়ার্ডে ভর্তির ব্যাপারে হাসপাতালের চিকিৎসক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নেতা এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির অনুরোধও রক্ষা করা যাচ্ছে না।
আহনাব শাহরিয়ার আরও বলেন, গতকাল দুপুরে মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে আসা রোজলী বেগম নামের এক রোগীকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি নিতে না পেরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই দিন বিকেলেই ওয়ার্ডে একটি শয্যা ফাঁকা হওয়ায় তাঁকে ভর্তি করা হয়। তাঁর অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না।
তথ্য কর্মকর্তা আরও জানান, করোনা ওয়ার্ড যখন ২০ শয্যার ছিল, তখন চিকিৎসকের সংখ্যা ছিল তিনজন। পরে ৩০ শয্যার জন্য চিকিৎসক বাড়িয়ে করা হয় ৪ জন। শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার মধ্যে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও আগের জনবল দিয়ে চলছে করোনা ওয়ার্ড। প্রয়োজনীয় আয়া, ওয়ার্ড বয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাড়ানো হয়নি। বাড়ানো হয়নি নার্সের সংখ্যাও। করোনা ওয়ার্ডে এই মুহূর্তে বেশ কয়েকজন রোগীর অবস্থা জটিল। অন্যদিকে হাসপাতালের মেডিসিনের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের অধিকাংশও সন্দেহভাজন করোনা রোগী বলে জানা গেছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল সকাল আটটা থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজন করোনা রোগী মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস। এ সময়ে জেলায় তিন ধরনের পরীক্ষায় ৩৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় ৪২ জনের মধ্যে ৭ জন এবং র্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ৩৫০ জনের মধ্যে ৬৮ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই দফায় দেওয়া ১৪ দিনের লকডাউনের শেষ দিন ছিল আজ। এদিন শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে মানুষ ও যানবাহনের চলাচল ছিল কম। আমসহ কুরিয়ার সেবা নিতে যাওয়া-আসা মানুষদের যানবাহন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। রিকশা বা অটোরিকশাযোগে আম বা পণ্য কুরিয়ারে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ কিছু না বললেও ফেরার সময় খালি রিকশা বা অটোরিকশাগুলোকে পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। অনেক সময় সেসব যানের চাকা ফুটো করে দেয় পুলিশ। তবে একটু ভেতরের রাস্তা ও মোড়গুলোতে পুলিশি পাহারা না থাকায় সেগুলোতে যান ও মানুষের চলাচল দেখা যায়।
গত ঈদের পর থেকেই সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি চলছিল। লকডাউন ঘোষণার আগে এক সপ্তাহে জেলায় করোনা শনাক্তের হার ছিল প্রায় ৫৯ শতাংশ। অন্যদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদেরও বেশির ভাগই সীমান্তবর্তী শিবগঞ্জ উপজেলার। বিভিন্ন সীমান্তপথে অবৈধ চলাচলে করোনার ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে গত ২৪ মে দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে লকডাউন জারি করা হয়। পরে সাত দিন পর লকডাউন আবার সাত দিন বাড়ানো হয়।
এদিকে, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, বিশেষ লকডাউনের কিছু শর্ত শিথিল করে বিশেষ বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এ সময় ১১টি বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়। এসব বিধিনিষেধ সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ১৬ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।