
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় অবাধ, সুষ্ঠু ও দলীয় প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে এক হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নয়টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। আজ শনিবার ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাওলাদার কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এই দাবি করেন। ২৬ ডিসেম্বর সদর উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে এ নির্বাচন হবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনসারুল হক, রুহিয়া ইউনিয়নের আবদুল মতিন, আকচা ইউনিয়নের মো. সালাউদ্দিন, ঢোলারহাট ইউনিয়নের আবদুল জব্বার, রাজাগাঁও ইউনিয়নের নুর ইসলাম, দেবীপুর ইউনিয়নের জয়নাল আবেদিন, গড়েয়া ইউনিয়নের মো. রেজওয়ানুল ইসলাম, আখানগর ইউনিয়নের মজিবর রহমান ও সালন্দর ইউনিয়নের গোলাম মওলা।
দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এতে নৌকার প্রার্থীরা নানাভাবে দলীয় ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ক্ষমতাসীন দলের লোকজন পথসভায় ঘোষণা দিয়েছেন ‘একটি ভোট পেলেও নৌকার প্রার্থী চেয়ারম্যান হবেন।’ এ ছাড়া ক্ষমতাসীন দলের লোকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী–সমর্থকদের হুমকি, মারধর এমনকি বাড়িতে হামলা করে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করছে। প্রতিটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অনেক ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে তাঁদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটাররাও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে স্বতন্ত্র প্রার্থীরই জয়ী হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, বহিরাগত অস্ত্রধারীদের এনে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁদের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি–ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট হতে চাচ্ছেন না।
এ ছাড়া স্থানীয় সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছেন বলেও অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের।
রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আনসারুল হক বলেন, নৌকার সমর্থকদের প্রকাশ্যে হুমকি ও হামলার পর সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন কি না, এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন।
রাজাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে জনজোয়ার দেখা দিয়েছে। প্রশাসন নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে বলে আমরা আশাবাদী। আর নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে নৌকার জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নৌকার লোকজন তাঁদের কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন। ভয়ের কারণে অনেক সমর্থক পোলিং এজেন্ট হতেও ভয় পাচ্ছেন।
আকচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন বলেন, আমরা চাই, সব ইউনিয়নে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নজির স্থাপন করুক প্রশাসন। এতে যে ফলাফল হবে, সেটাই মেনে নেব।
জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এরই মধ্যে জেলার কয়েকটি উপজেলায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।