
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত যাত্রীদের বিনা ভাড়ায় পারাপার করা ট্রলারচালক মিলন খান মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন। অনেকেই তাঁকে অর্থসহ বিভিন্ন উপহার দিচ্ছেন। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা দেন জেলার পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন।
পুলিশের সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মিলন খান। তিনি বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের উদ্ধার করে বিনা ভাড়ায় পারাপার করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন তিনি। এ জন্য অনেকেই তাঁকে এখন ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।
ঝালকাঠির পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন বলেন, ‘মিলন খান যে কাজটি করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে সামান্য শুভেচ্ছা উপহার দিয়েছি।’
পটুয়াখালীর তরুণ ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান গতকাল মঙ্গলবার রাতে মিলন খানের পরিবারের পাঁচ সদস্যকে শীতের নতুন পোশাক উপহার দেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রিসিলা নামের এক বাংলাদেশি তরুণী মিলনের জন্য ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। ঢাকার এক ব্যবসায়ী মিলনকে নতুন একটি ট্রলার দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
২৪ ডিসেম্বর ঝালকাঠি সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শ তিনেক যাত্রীকে পারাপার করেছেন মিলন খান। তিনি লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া লোকজনকে উদ্ধার করে তীরে পৌঁছে দিয়েছেন। বিপদগ্রস্ত যাত্রীদের অনেককে তিনি হাসপাতালে পাঠাতে সাহায্য করেছেন। যাত্রী বহনের পুরো কাজটি তিনি করেছেন বিনা ভাড়ায়। এ নিয়ে ২৬ ডিসেম্বর প্রথম আলো অনলাইনে ‘সেই রাতে বিনা ভাড়ায় শ তিনেক যাত্রী পারাপার করেন তিনি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।