দেশের যে প্রান্তেই রাজনৈতিক বড় দলের জনসভা বা সমাবেশ হয়, সেখানেই দলীয় প্রতীকের ছোট–বড় পতাকা, নেতাদের ছবি–সংবলিত কোট পিন, প্লাস্টিকের ব্যাজসহ নানা উপকরণ নিয়ে হাজির হন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া গ্রামের নাসির খাঁ (৭০)। দলীয় কর্মী–সমর্থকদের কাছে বিক্রি করেন এসব উপকরণ। ৩০ বছর ধরে এ পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২ জানুয়ারি প্রচারণা শুরুর পর থেকে দেশের যেখানেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভার আয়োজন হয়েছে, সেখানেই হাজির হয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ জনসভাস্থলে দলীয় পতাকাসহ নানা উপকরণের পসরা সাজিয়ে বসেছেন নাসির খাঁ। তিনি বলেন, যেখানেই তারেক রহমানের সমাবেশ, সেখানেই পতাকা ও দলীয় প্রতীকের নানা উপকরণের পসরা সাজিয়ে বসেন। ২২ জানুয়ারি থেকে সিলেট, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফেনী, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বিএনপির জনসভায় দলীয় পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন তিনি। প্রতিটি সমাবেশে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়। যাতায়াত, থাকা–খাওয়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে তাঁর প্রতিটি সমাবেশে গড়ে দুই হাজার টাকা মুনাফা হয়।
সভাস্থলে দেখা যায়, সমাবেশে আসা লোকজন বিএনপির লোগো, প্রতীক ও দলীয় প্রধানের ছবি–সংবলিত পতাকা, বুক পিন, ব্যাজ, হেড ব্যান্ডসহ নানা উপকরণ কিনতে ব্যস্ত। বগুড়া শহরের বৃদ্ধ ভিক্ষুক বেলাল হোসেন ধানের শীষ আঁকা একটি বুক পিন কিনতে চান এক দোকানির কাছে। দোকানি দাম চান ৩০ টাকা। ভিক্ষা করে ২০ টাকা জমিয়ে এ পিন কিনতে এসেছেন জানানোর পর দোকানি ২০ টাকাতেই তাঁর পাঞ্জাবির বুকে ধানের শীষের একটি পিন লাগিয়ে দেন। ভিক্ষার টাকায় ধানের শীষের বুক পিন কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে ভিক্ষুক বেলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল থ্যাকে ভিক্ষা করে ২০ টেকা জমাচি। এ টেকায় দুপুরে ভাত খাবার চ্যাচনু। এটি আসে শুনিচ্চি জিয়ার বেটা ভাষণ দিবি। হামাকেরে এমপি হবি। তাক অ্যাকনা দ্যাকমু। এ জন্যি জনসভাত আসিচি। ধানের শীষ ভালো নাগে। এ জন্যি খাবারের টেকা দিয়া অ্যাকনা ধানের শীষের পিন কিনচি।’
বগুড়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভায় দলীয় নানা উপকরণের পসরা সাজিয়ে বসেছেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের লক্ষ্মীপুর গ্রামের যুবক সালমান মিয়া (৩০)।
সালমান মিয়া বলেন, ২২ জানুয়ারি সিলেটে বিএনপির সমাবেশে তিনি নির্বাচনী উপকরণ বিক্রির ব্যবসা শুরু করেছেন। চট্টগ্রাম ও গাজীপুর হয়ে বগুড়ায় এসেছেন। সিলেটে বেচাবিক্রি ভালো হয়েছে। বগুড়ায়ও বেচাবিক্রি খুব ভালো। তিনি ঢাকার চকবাজার থেকে বুক পিন, বুক ব্যাজ, ছোট–বড় পতাকাসহ বেশির ভাগ পণ্য কেনেন। ছোট পতাকা ১০ থেকে ৫০ টাকায় এবং ৫ ফুট পতাকা ৩০০ টাকায় বিক্রি করেন। বুক পিন, বুকের ব্যাজসহ আনুষঙ্গিক পণ্য ২০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। শহরে ঘুরে ঘুরেও এসব পণ্য বিক্রি করেন।
দলীয় পতাকার পসরা নিয়ে বসেছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার শাহীন (৫০) নামের এক ব্যক্তি। শাহীন বলেন, ধুনট বাজারে পতাকা বিক্রির দোকান আছে তাঁর। তিনি নিজেই পতাকা বানিয়ে তা বিক্রি করেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক দেখে তিনি পতাকা বানান। এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ ছাড়াও দাঁড়িপাল্লার প্রতীক দিয়ে পতাকা বানিয়েছেন। পতাকা ছাড়া কোট পিন, বুকের ব্যাজসহ নানা উপকরণ বিক্রি করছেন। নির্বাচনের পর একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসেও পতাকা বিক্রি করবেন।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর আজ পৈতৃক জেলা বগুড়ায় আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজশাহী ও নওগাঁয় নির্বাচনী জনসভা শেষে সড়কপথে বগুড়ায় পৌঁছে সন্ধ্যায় শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তিনি। তাঁকে বরণ করতে নেতা–কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
‘জিয়াবাড়ি’ যাচ্ছেন না তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়ায় আসলেও পৈতৃক ভিটা গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে ‘জিয়াবাড়ি’-তে যাচ্ছেন না। আগামীকাল শুক্রবার নিজের নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-৬ (সদর) আসনে প্রচারে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও এদিন তিনি রংপুর সফরে যাচ্ছেন। পীরগঞ্জে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে বিকেলে রংপুর ঈদগাঁও মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন।
তারেক রহমানের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত সফরসূচির বরাত দিয়ে বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।