
শহরের মানুষ কিছুটা চিকিৎসা সুবিধা পেলেও গ্রামের অধিকাংশ জায়গায় এখনো ভালোভাবে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছায়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই ১ লাখের মধ্যে ৮০ শতাংশ থাকবে নারী স্বাস্থ্যকর্মী। এই মানুষগুলোর দায়িত্ব হবে গ্রামে গ্রামে, ঘরে ঘরে যাওয়া। শহরেও তারা থাকবে। তবে আমরা জোর দেব, গ্রামের মানুষের ওপরে বেশি। তারা বিশেষ করে পরিবারের নারীদের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা চালাবে।’
আজ শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তারেক রহমান বলেন, তাঁরা (নতুন নিয়োগকৃত স্বাস্থ্যকর্মী) বিশেষ করে পরিবারের নারী যাঁরা আছেন, যাঁরা সংসার দেখাশোনা করেন, তাঁদের সচেতন করবে যে কোন খাবারটি খেলে ডায়াবেটিস হবে না, কোন খাবারটি খেলে কার্ডিও হবে না, বা লাইফস্টাইল কী হলে তাঁর হার্টের সমস্যা হবে না, কোন খাবারটি খেলে কিডনির রোগ হবে বা কিডনির রোগ হবে না, এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন করবে। হাইজিন সম্পর্কে তাঁদের সংশোধন করবে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি ধীরে ধীরে সামগ্রিকভাবে পুরা দেশে অসুস্থ যত বেশি সংখ্যক মানুষকে সুস্থ রাখা। তার ফলে স্বাভাবিকভাবে যাঁরা হাসপাতালে আসবে, পরবর্তী সময়ে অসুস্থ হয়ে তাঁদের যাতে বেটার চিকিৎসা দেওয়া যায়। অসুস্থ মানুষের সংখ্যা যখন কম হবে, আমাদের জন্য সুবিধা হবে টেককেয়ার করতে। আমরা যদি মানুষকে সচেতন করতে পারি, সচেতনতার মাধ্যমে আমরা যদি অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি, তাহলে যাঁরা অসুস্থ হবেন তাঁরা বেটার সার্ভিস পাবেন।’
সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সমস্যার বিষয়টি উত্থাপন করে তা সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘আজ বৃষ্টি হচ্ছে। কারও জন্য সুবিধা, কারও জন্য অসুবিধা। এই বৃষ্টির কারণে আমি যখন শহরের দিকে আসছি, বৃষ্টির কারণে দেখেছি বিভিন্ন জায়গায় একটু একটু করে পানি জমে গিয়েছে এবং বৃষ্টি যদি আরেকটু বেশি হয়, হয়তো এরই ভেতরে অনেক জায়গা আছে, যেখানে কিছু জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে যাবে। তবে কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছিলেন, চট্টগ্রামের কিছু নিউজ এসেছিল। যদিও সেটার মধ্যে পরে আমরা দেখেছি, পুরোপুরি সত্যতা ছিল না। যাই হোক, আমরা দেখেছি যে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা।’
সিলেট নগরের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল যেটা আছে, সেটা ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে। এই সকল কিছু বিষয় মাথার মধ্যে রেখে বিবেচনা করে আমরা খাল খনন কর্মসূচি সারা দেশে দিয়েছি। আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল যেটা আছে, সেটা শুধু সিলেট সিটি করপোরেশন নয়, এই সমস্যা ঢাকাতে আছে, এই সমস্যা অন্য অনেক শহরগুলোতে আছে। আমাদের জন্য যেটি একটি বড় সমস্যা হচ্ছে। যেভাবে আমরা মাটির নিচে যে পানি আছে, এটিকে যে টেনে তুলছি, এ ছাড়া কৃষিকার্যের জন্য একই কাজ আমরা করছি, এটি ধীরে ধীরে একটি ভয়াবহ অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
জলাবদ্ধতা দূরসহ নানা কারণে খাল খননের প্রাসঙ্গিকতা আছে উল্লেখ করে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পানিটাকে যাতে আমরা ব্যবহার করতে পারি, জলাবদ্ধতাও যাতে না হয়, মানুষেরও কষ্ট না হয়, সেটি কৃষির সুবিধার জন্য হোক, পানি থেকে মানুষের ব্যবহার সুবিধার জন্যই হোক, আমরা খালগুলো খনন করতে চাচ্ছি দেশে, যাতে অতিরিক্ত যে পানি থাকবে, সে পানিটাকে যাতে আমরা ধরে রাখতে পারি এবং প্রয়োজনের সময় আমরা সেটিকে মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারি।’
সিলেটের জন্য বিএনপি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলেছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানে আসার আগেই সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, সেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এসেছি। এই কাজটি সম্পন্ন হলে আমরা ধরে নিতে পারি, ইনশা আল্লাহ সিলেট শহরে জলাবদ্ধতা হবে না। তবে অবশ্যই এখানে আরেকটি বিষয় আমাদের খেয়াল রাখা প্রয়োজন। যে সমস্যাটি শুধু সিলেটে নয়, যে সমস্যাটি আমাদের প্রায় সবগুলো শহরে আছে, সামগ্রিকভাবে হয়তো সমগ্র দেশেই আছে। সুরমা নদীতে বিভিন্ন পলিথিন থেকে আরম্ভ করে, প্লাস্টিক থেকে আরম্ভ করে, পড়তে পড়তে স্তরটা বেশ পুরো হয়ে গিয়েছে।’ লন্ডনের কিছু বিশেষজ্ঞদের মতামতের সূত্র ধরে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতেও প্রায় দুই মিটার ময়লার স্তর জমেছে বলেও তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি অসম্ভব রকম বিষাক্ত হয়ে গিয়েছে। এভাবে যদি সব নদী বিষাক্ত হতে থাকে, তাহলে একটা অসম্ভব ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে আমরা ধাবিত হচ্ছি। কাজেই এ বিষয়ে আমাদের মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি করপোরেশনকে আমি অনুরোধ করব, অবশ্যই আপনারা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করবেন, মানুষ যাতে সেবা পায়। কিন্তু একই সাথে পাশাপাশি যদি আপনারা মানুষকে সচেতন করার জন্য উদ্যোগ নেন, ভালো। যেমন প্লাস্টিক, পলিথিন, কাগজ যেকোনো বর্জ্য হোক না কেন, এই জিনিসগুলো যত্রতত্র যাতে আমরা না ফেলি।’ দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশনের ভেতরে থাকা বিদ্যালয়ে এমন সচেতনতা চালাতে তিনি আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিমানে সিলেটে আসা এবং সড়ক পথে ঢাকা যাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব সাড়ে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু বাই রোডে সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়ার অবস্থা এতই খারাপ, প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। আমরা সরকার গঠন করার পর এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি তখন জানতে পারলাম, জায়গা অধিগ্রহণের সমস্যা রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়ে আমি আশা করছি, ইনশা আল্লাহ দ্রুত সময়ে আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। কাজটি শুরু করলে ইনশা আল্লাহ শেষ তো একসময় হবে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা এটা ইনশা আল্লাহ শেষ করতে পারব। তার ফলে যাতায়াতের এত কষ্ট মানুষকে ভোগ করতে হবে না।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘শুধু রাস্তা আমাদের বাড়ালেই যে সমস্যার সমাধান হবে তা না। একই সাথে আমরা যদি রেলওয়ে ব্যবস্থাকেও ডেভেলপ করতে চাই। সারা দেশে কীভাবে রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করা যায়, রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করলে স্বাভাবিকভাবে অধিকাংশ মানুষ এটিতে যাতায়াত করবেন, এটিতে খরচ কম হবে। রাস্তা যতই বড় করতে থাকি, ততই গাড়ি নামবে রাস্তায়, ট্রাফিক বাড়বে। এ ছাড়া জনসংখ্যার ভিত্তিতে আমরা পৃথিবীর খুব সম্ভবত অষ্টম স্থানে আছি। কিন্তু আমরা ল্যান্ড ওয়াইজ যদি চিন্তা করি, আমাদের দেশটা হয়তো অত বড় না, অনেক দেশ থেকে ছোট। বাংলাদেশ হচ্ছে একটি কৃষিপ্রধান দেশ। সে জন্য রাস্তা যদি নির্মাণ করি, আমরা একই সাথে কিন্তু আমাদের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর খাবার তো আমরা বিদেশ থেকে ইমপোর্ট করা সম্ভব না। আমরা আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটিভাবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কাজেই এটিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে, সে জন্য অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন দরকার। তবে আমরা রাস্তার ক্ষেত্রে রেলটাকে ডেভেলপ করতে চাই।’ এ সময় সিলেটের রেল যোগাযোগকে ডাবল লাইন কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে বিএনপি সরকার ভাবছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল আছে। এই হাসপাতালটি আমরা চেষ্টা করছি, দ্রুত যাতে চালু হতে পারে। একই সাথে আমরা এরপর এটাকে চেষ্টা করব এক্সপ্যান্ড করে ১২০০ শয্যার একটি হাসপাতালে নিতে।’
বন্ধ কলকারখানা চালুর কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এই কলকারখানাগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব চালু করব। যদি দরকার হয় আমরা প্রাইভেটাইজ করব সেগুলোকে। যাঁরা এগুলো চালাতে আগ্রহী, তাঁদের কাছে আমরা হ্যান্ডঅভার করব। এই কাজটি শুরু করতে পারলে একদিকে সারা দেশে বহু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। একই সাথে আমরা চেষ্টা করছি দেশে এবং বিদেশে যাঁরা বিনিয়োগকারী আছেন, তাঁদের উৎসাহিত করার জন্য। যাতে তাঁরা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মিল-কারখানা অথবা সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি যেটাই হোক, তাঁরা যাতে বিনিয়োগ করেন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সিলেটে একটি আইটি পার্ক করা হয়েছিল। পার্কটি সেভাবে সচল নেই। এই আইটি পার্কটি নিয়ে অলরেডি আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমাদের যে মন্ত্রণালয় আছে, তারা কাজ করছে। ইনশা আল্লাহ, দ্রুত সময়ে আমরা এটা চালু করতে সক্ষম হব। আমাদের তরুণ সমাজের অনেক সদস্য আছে, যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করেন, আইটির বিভিন্ন কাজ করেন, ডাটা প্রসেসিংয়ের কাজ করেন, তাদের আমরা ওখানে সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দেখুন আড়াই মাস বয়সে একটি শিশু কিন্তু হাঁটতে পারে না। শিশুটাকে হাঁটতে হলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমান সরকারের বয়স আড়াই মাসের মতো। তবে আমরা এরই মধ্যে যেসব কমিটমেন্ট দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম, সেই কমিটমেন্টগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।’
সিলেটে আজ বিকেলে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাওয়া নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের ছোট-ছোট ছেলেমেয়েদের ভেতর থেকে ভবিষ্যতে ভালো খেলোয়াড় বের করে আনতে চাই। তারই অংশ হিসেবে আমরা আজকে সিলেটের মাটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এটা শুরু করব। এর ভেতর থেকে নিশ্চয়ই আমরা এমন কিছু খেলোয়াড় বের করে নিয়ে আসতে পারব, যারা ভবিষ্যতে ইনশা আল্লাহ দেশের জন্য স্বর্ণপদক ছিনিয়ে নিয়ে আসবে, আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে দেশের সুনাম তারা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে।’
সুধী সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা সুনন্দা রায়। অনুষ্ঠানে দর্শক সারিতে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানসহ সিলেটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজসহ নানা শ্রেণি-পেশার কয়েক শ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আজ সকালে ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে করে সিলেটে আসেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সাড়ে ১০টার দিকে তিনি নগরের দরগাগেট এলাকায় হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে ১০টা ৫৫ মিনিটে সিলেট সার্কিট হাউস-সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনিঘাট এলাকায় সুরমা নদীর উভয় পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যাপ্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর নগর ভবন প্রাঙ্গণে সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
পরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খালের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুপুর ১২টায় বাসিয়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। সেখান থেকে ফিরে তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে বিশ্রাম নেবেন। বেলা তিনটায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। বিকেল পাঁচটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় যোগ দিয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।