
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভা শেষে ফেরার পথে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের হাটবাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরের এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।
জামায়াতের নেতাদের দাবি, জনসভা থেকে ফেরার পথেই বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে জামায়াতের কর্মী রবিউল হোসেন, জাকারিয়া রাসেল, রাসেল ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবিরের নেতা রিফাত সানি আহত হন।
অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের দাবি, কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা হাটবাইর গ্রামে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানের বাড়িতে অতর্কিতে হামলা করেন। এর জেরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী, তাঁর গাড়িচালক মামুনসহ তিনজন আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতের আমিরের জনসভা শেষে দলটির নেতা-কর্মীরা পিকআপে করে এলাকায় ফিরছিলেন। হাটবাইর এলাকায় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উভয় পক্ষের আহত ব্যক্তিদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন বলেন, ‘নির্বাচনী জনসভা শেষে আমাদের নেতা-কর্মীরা পিকআপে করে বাড়িতে ফিরছিলেন। হাটবাইর এলাকায় বিএনপি নেতা মিজান খান, গাজী ইয়াছিনসহ অন্তত ২০ জন আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। তাঁরা আমাদের নেতা-কর্মীদের দেখে উসকানিমূলক বিভিন্ন কথাবার্তা বলেন। আমাদের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় আমাদের চারজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। সার্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপির নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন।’
আহত বিএনপি নেতা সোলেমান চৌধুরী বলেন, দুপুরে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা জনসভা থেকে ফেরার পথে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মিজানের বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা করেন। এ সময় নারীদেরও মারধর করা হয়। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এগিয়ে যান। তখন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এ সময় তিনিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর তারাই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।’
চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছানা উল্লাহ বলেন, হাটবাইর এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।