সময়মতো বরাদ্দ না পৌঁছানোর কারণে জেলার অনেক কৃষক এবার আমনখেতে প্রয়োজনীয় এমওপি সার দিতে পারেননি।
আমনখেতে চাহিদা শেষ হওয়ার পর বরাদ্দ আসে ১ হাজার ৫৫৫ মেটিক টন এমওপি সার।
ওই বরাদ্দের মধ্যে আরও তিন হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আমনখেতে চাহিদা শেষ হওয়ার পর এই বরাদ্দ এসেছে।
যশোরের কৃষকেরা সময়মতো বরাদ্দের ১ হাজার ১১৭ মেট্রিক টন এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সার পাননি। এ জন্য জেলার অনেক কৃষক এবার আমনখেতে প্রয়োজনীয় এমওপি সার দিতে পারেননি।
আমনখেতে চাহিদা শেষ হওয়ার পর বরাদ্দ আসে ১ হাজার ৫৫৫ মেটিক টন এমওপি সার। চলতি সেপ্টেম্বরের জন্য দেওয়া ওই বরাদ্দের মধ্যে আরও তিন হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জুলাইয়ের শুরু থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত আমন মৌসুম। আমন ধানের চারা রোপণের সময়কাল মধ্য জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। চারা রোপণের সময়কালে অ-ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে হয়। অ-ইউরিয়া সারের মধ্যে একটি হচ্ছে এমওপি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, যশোর কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় এবার আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৭ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে। এ জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বিএডিসির আমদানি করা জুলাই মাসের জন্য ২ হাজার ১৯২ মেট্রিক টন এবং আগস্ট মাসের জন্য ১ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টন এমওপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জুলাই মাসে ১ হাজার ৮৯৫ মেট্রিক টন এবং আগস্ট মাসের বরাদ্দ ১ হাজার ৪৭ মেট্রিক টন এমওপি সারের আগমনী বার্তা (অ্যারাইভাল রিপোর্ট) পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, বরাদ্দের ১ হাজার ১১৭ মেট্রিক টন সার কৃষকেরা পাননি। এরপর গত ২২ আগস্ট সরকারের ভর্তুকির সুবিধার আওতায় বেসরকারি আমদানিকারকদের আমদানি করা সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১ হাজার ১৫৫ মেট্রিক টন এমওপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ২৮ আগস্ট জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় এমওপি সারের চাহিদার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এরপর ৫ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত এমওপি সার বরাদ্দের জন্য জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়। সে অনুযায়ী ১২ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত তিন হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফারিহা ট্রেডিং ওই সার সরবরাহ করার কথা। যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় অবস্থিত ওই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের গুদাম থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই সার সরবরাহ করার কথা রয়েছে। সূত্র জানায়, কৃষকপর্যায়ে সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা (৫০ কেজির) এমওপি সারের দাম ৭৫০ টাকা (১৫ টাকা প্রতি কেজি)।
বাঘারপাড়া উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বর্গাচাষি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এবার ছয় বিঘা (৫২ শতকে বিঘা) জমি বর্গা নিয়ে আমন ধান করছি। জমিতে চাষের নিচে পটাশ সার (এমওপি) দিলে ভালো কাজ হয়। ধান ভালো হয়। আমার তিন বস্তা পটাশ সারের দরকার ছিল। কিন্তু আমি দরকারমতো সার পাইনি। অনেক ঘুরে ১ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে মাত্র ১ বস্তা (৫০ কেজি) পটাশ সার কিনে খেতে দিয়েছি।’
আমন রোপণের মৌসুম শেষ। এখন অতিরিক্ত বরাদ্দের সার কোন খাতে ব্যবহার করা হবে, জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক এবং জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘এমওপি সার চাষে এবং চারা রোপণের পর থেকে উপরি প্রয়োগ করা যায়। এবার চাহিদার তুলনায় এমওপি সার কম পাওয়া গেছে। এ জন্য অতিরিক্ত সার বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। ওই সারের একটা অংশ কৃষক আমনখেতে উপরি প্রয়োগ করবেন। অবশিষ্ট সার কৃষক আসন্ন রবি মৌসুমে খেতে প্রয়োগ করতে পারবেন।’