কুমিল্লার নগরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগে এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরের অশোকতলা বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত ৯টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত তরুণের নাম মো. সায়েম (২৪)। তিনি অশোকতলা এলাকার একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া আমিনুল ইসলামের ছেলে। রংপুরের বাসিন্দা আমিনুল কুমিল্লা নগরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। পুলিশের ভাষ্য, ওই যুবক পেশাদার ‘ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজ’।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সায়েম প্রায় সময় বিসিক এলাকা ঘুরে ঘুরে বিসিকের ব্যবসায়ী, অশোকতলা এলাকার দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করতেন। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিসিক শিল্পনগরীর জান্নাত ফুড প্রোডাক্টস নামের একটি কারখানায় উৎপাদিত শনপাপড়ি খেতে গিয়ে সেখানেও চাঁদা দাবি করেন সায়েম। এ সময় সেখানে হাত-পা বেঁধে তাঁকে আটকে মারধর করেন স্থানীয় একদল লোক। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সায়েমকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ স্থানীয় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে কিছু যুবক পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর নিহত সায়েমের বাবা আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অন্তত তিন বাসিন্দা প্রথম আলোকে বলেন, ওই যুবক আরও কয়েকজনসহ এলাকায় চুরি ও ছিনতাই করতেন। এ জন্য মানুষ তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। কিন্তু এভাবে পিটিয়ে হত্যা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। তাঁকে চাঁদা দাবির সময় আটকের পর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া যেত।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, সায়েম এলাকায় চাঁদাবাজি করতেন। প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন, সায়েম একজন পেশাদার ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিসিকের একটি প্রতিষ্ঠানে চাঁদার জন্য গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার পিটুনির পর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।