পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে সপ্তম দিনেও আন্দোলন চলমান
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে সপ্তম দিনেও আন্দোলন চলমান

পটুয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

পরীক্ষা বর্জন করে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা, ক্যাম্পাস অচল সাত দিন

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবির আন্দোলন অব্যাহত আছে। এবার পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে উপাচার্যবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নেন। একই দাবিতে গতকাল রাতেও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে টানা সপ্তম দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে আছে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া ডেপুটি রেজিস্ট্রার রাহাত মাহমুদ বলেন, শিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর বহিরাগতদের হামলা নজিরবিহীন ঘটনা। তাঁর ভাষ্য, এই হামলার ঘটনায় উপাচার্যের নাম ইন্ধনদাতা হিসেবে উঠে আসায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর অপসারণ এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, উপাচার্যকে অপসারণ, হামলায় ইন্ধনদাতা হিসেবে তাঁর বিচার এবং হামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পবিপ্রবির সব কার্যক্রম স্থগিত ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হাবিবুর রহমান জানান, ১১ মে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের লোকজন উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে এককাট্টা হয়েছেন। রেজিস্ট্রার বলেন, ‘যেহেতু উপাচার্যকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাই উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন বন্ধ হওয়ার সুযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখানকার একজন প্রবীণ শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছি।’

আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়েজুর রহমান তালহা জানান, তাঁদের বিভাগের দুটি ব্যাচের ১২০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা বর্জন করেছেন। তাঁর দাবি, অন্যান্য অনুষদ মিলিয়ে আরও প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী একই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তালহা বলেন, ‘উপাচার্যের অপসারণ ও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১১ মে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। এ সময় বহিরাগতদের হামলায় একাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করা হয়।

হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় দুমকি উপজেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক বশির উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান ফারুক ও সুলতান শওকত, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুসা ফরাজী এবং জেলা মহিলা দলের সদস্য হেলেনা খানমকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক যুবদল নেতা সালাউদ্দিন রিপন শরীফসহ জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বহিষ্কার আদেশে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলামের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।