ময়মনসিংহে টোলপ্লাজায় ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় ৬ জন গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহে টোলপ্লাজায় বাগ্‌বিতণ্ডা থেকে ছুরিকাঘাতে একজনকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে ঢাকার আমিনবাজার থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের ময়মনসিংহে আনা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে ময়মনসিংহ নগরের চর কালিবাড়ী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন তরুণ ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক ওরফে রাকিব (২৩)। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা। এ সময় ছুরিকাঘাতে দুজন পরিবহন শ্রমিকও আহত হন।

আবদুর রাজ্জাক ও কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক মারধর থামাতে গেলে মাইক্রোবাসের যাত্রীরা এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যু হয়।

ডিবি জানায়, গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে তিনজন এ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তাঁরা হলেন প্রধান আসামি ইয়াসির আরাফাত ওরফে শাওন, ইয়াসিরের ভাই মাসুদ পারভেজ ও আনিসুর রহমান ওরফে ফারুক। এ ছাড়া এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার অপর তিনজন হলেন মো. মানিক, মো. মবিন ও শান্ত।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার সময় টোলপ্লাজা এলাকায় যানজটে থেমে থাকা একটি মাইক্রোবাসের যাত্রীদের সঙ্গে একটি ট্রাকের চালকের কথা-কাটাকাটি হয়। কথা-কাটাকাটির জের ধরে মাইক্রোবাসের যাত্রীরা নেমে ট্রাকচালককে মারধর করতে শুরু করেন। ওই সময় টোলপ্লাজা এলাকায় থাকা আবদুর রাজ্জাক ও কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক মারধর থামাতে গেলে মাইক্রোবাসের যাত্রীরা এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৬ জনের নামে মামলা করেন আবদুর রাজ্জাকের মা হাসি বেগম। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আবদুর রাজ্জাক হত্যার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন ইয়াসির আরাফাত ও তাঁর ভাই মাসুদ পারভেজ। ইয়াসির ময়মনসিংহ নগরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাঁর নামে একাধিক মামলা রয়েছে। তিন বছর আগে অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন ইয়াসির।
ইয়াসির আরাফাতসহ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে চর কালিবাড়ী এলাকার মানুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, একটি ভিডিওতে দেখা গেছে ইয়াসিরসহ আসামিরা দৌড়ে একটি মাইক্রোবাসে উঠছেন। ঘটনাটি পুলিশ খুব গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।