চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের (চাকসু) ভোট গ্রহণ হবে অনুষদ ভবনে। এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে চাকসু নির্বাচন কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো আবাসিক হলেই ভোটকেন্দ্র থাকবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের মতো ওএমআর পদ্ধতিতেই ভোট গণনা হবে। কোন হলের শিক্ষার্থীরা কোন অনুষদ ভবনে ভোট দেবেন, তা পরে জানানো হবে।
আজ বুধবার বেলা দেড়টায় এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান চাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন। চাকসুর আচরণবিধি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ সভা শুরু হয়।
সভায় নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, গত নির্বাচন (১৯৯০ সালে) হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুলে। কারণ, ওই স্কুলের পাশেই তখন প্রশাসনিক ভবন ছিল। এবার অনুষদ ভবনে হবে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের চেয়ে অনাবাসিক শিক্ষার্থী বেশি। তাঁরা হলের চেয়ে অনুষদ ভবন বেশি চেনেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮টি বিভাগ ও ৬টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। এসব বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ক্লাস পরিচালিত হয় আটটি অনুষদ ভবনে। তবে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ক্লাস আলাদা ভবনে নেওয়া হয়।
অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসন থেকে চাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। যখন যে অবস্থায় সাহায্যের দরকার হয়, আইন মেনে তাঁরা সাহায্য করবেন। এখন পর্যন্ত কোনো সংঘাত বা সংঘর্ষের আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সভায় প্রার্থী, ভোটার ও সাংবাদিকদের জন্য আচরণবিধি পড়ে শোনান নির্বাচন কমিশনার লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক আমির মুহাম্মদ নসরুল্লাহ। এতে তিনি ১৭টি নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে চাকসু নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্বাভাবিক চলছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, তদন্ত চলছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব ও শহীদ আবদুর রব হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম আরিফুল হক সিদ্দিকী, নির্বাচন কমিশনার আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মু. জাফর উল্লাহ তালুকদার, নির্বাচন কমিশনার লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, নির্বাচন কমিশনার ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী, শামসুন্নাহার হলের প্রাধ্যক্ষ বেগম ইসমত আরা হক প্রমুখ।
এর আগে গত সোমবার চাকসু নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। এতে তালিকার বিষয়ে কারও কোনো আপত্তি থাকলে নিজ বিভাগে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। খসড়া তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে চাকসুর ভোটার ২৫ হাজার ৮৬৬ জন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হবে। মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যাচাই-বাছাই হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হবে ২১ সেপ্টেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৩ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর।
ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ শেষে শুরু হবে গণনা।