
নেত্রকোনা জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তারিফুর রহমান ওরফে রিপনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীদের মানবন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারিফুর রহমানের লোকজন এ হামলা চালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
হামলার সময় উভয় পক্ষের সাত শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় জেলা প্রেসক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের কয়েক সপ্তাহ পর থেকে জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তারিফুর রহমান স্থানীয় পরিবহন সেক্টরের মালিক ও শ্রমিকদের কাছ থেকে অনৈকভাবে চাঁদা আদায় করছেন। এ নিয়ে শ্রমিকেরা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অসাংগঠনিক ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য তারিফুর রহমানের কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাঁর বক্তব্য সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে তারিফুরের চাঁদাবাজির প্রতিবাদে জেলা শ্রমিক দলের অপর একটি পক্ষ আজ ‘পরিবহন শ্রমিকবৃন্দ’ ব্যানারে মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে জেলা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, সহসম্পাদক আবদুল কাইয়ুম, জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আবদুল জলিলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শ্রমিকনেতা ও চালকেরা অংশ নেন।
তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী প্রথম আলোকে জানান, বেলা ১১টার দিকে শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধন শুরু হলে পরিবহনচালক সৈয়দ শাহজাহান আহমেদ যখন বক্তব্য শুরু করেন, তখন ২৫ থেকে ৩০ জন এসে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হন। এ সময় উপস্থিত থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার পর হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তারিফুর রহমানের নেতৃত্বে ৫ আগস্টের কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই পরিবহনে ব্যাপক চাঁদাবাজি চলছে। তাঁর এসব কর্মকাণ্ডে আমরা অতিষ্ঠ। প্রতিবাদে মানববন্ধন করতে চাইলে চাঁদাবাজ তারিফুরের কাছের লোক তৌফিক আহমেদের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে আমাদের শ্রমিক নান্টু মিয়া, আজগর আলী, সুজন মিয়া ও সাদ্দাম মিয়াকে আহত করে। আহতদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারিফুরের এসব কার্যকলাপের জন্য দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। আমরা তারিফুরের চাঁদাবাজি বন্ধসহ এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে তারিফুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তাঁর পক্ষের লোক হিসেবে পরিচিত তৌফিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বা তাঁর নেতৃত্বে মানববন্ধনে কোনো হামলা চালানো হয়নি। আর তারিফুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে সামান্য পাল্টাপাল্টি ঘটনা ঘটেছে। এতে চার-পাঁচজনের মতো আহত হয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।